করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার দেশে করোনা শনাক্তের ১৬৮তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২ হাজার ২৬৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশে সর্বমোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৫ জন। একই দিন পাকিস্তানে নতুন ৫৮৬ জনসহ রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১৭৪ জন। করোনা আক্রান্তের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন এক ধাপ এগিয়ে ১৫তম অবস্থানে এবং পাকিস্তান এক ধাপ পিছিয়ে ১৬তম অবস্থানে। এছাড়া এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয়। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি রোগী আছে কেবল ভারতে। আক্রান্তের দিক থেকে পাকিস্তানকে পেছনে ফেললেও মৃত্যুতে এখনো অনেক পেছনে বাংলাদেশ। করোনায় মৃত্যুর দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ ২৯তম, পাকিস্তান ২২তম এবং ভারত চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে গত ৫ দিন ধরে দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু বেড়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪৬ জন রোগী মারা গেছে। এ নিয়ে গত ৫ দিনে মৃত্যু হলো ২১৩ জনের। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৩ জন করে। যেখানে আগের পাঁচ দিন প্রতিদিন গড়ে ৩৬ জন করে ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ কদিন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশে গড় মৃত্যুহারও সামান্য বেড়ে ১ দশমিক ৩৪ শতাংশে পৌঁছেছে। মৃত্যু বাড়ার বিপরীতে আশার দিক হলো দেশে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্তের চেয়ে বেশি রোগী সুস্থ হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত দেশে সর্বমোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।
গতকাল অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১০ হাজার ৫৯৫টি। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৩৫৬টি। এসব পরীক্ষায় নতুন করে ২ হাজার ২৬৫ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৪৬ এবং হাসপাতাল ও বাসা মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৯৫২ জন।
অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৫টি নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৩ হাজার ৯০৭ এবং সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৭ জন। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ ও সুস্থতার হার ৬০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩৬ ও নারী ১০ জন। সর্বোচ্চ ২৭ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ৮, চট্টগ্রামে ৫, বরিশাল ও সিলেটে ২ জন করে এবং খুলনা ও রংপুরে ১ জন করে মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৫ ও বাড়িতে ১ জন। মৃতদের মধ্যে ৩১-৪০ বছরের ১, ৪১-৫০ বছরের ৬, ৫১-৬০ বছরের ৬ এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সী ৩৩ জন।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৮২ ও নারী ৮২৫ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৮ দশমিক ৮৮ ও নারী ২১ দশমিক ১২ শতাংশ। আর বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৮১ জন মৃত্যুবরণ করেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮৬৮, খুলনায় ৩১৬, রাজশাহীতে ২৬৩, সিলেটে ১৮০, রংপুরে ১৬৩, বরিশালে ১৫৩ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৮৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৫৫০ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ২০ হাজার ৬২০ জন। একই সময়ের মধ্যে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২১৯ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৩ হাজার ২৬৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় হটলাইনগুলোতে কল এসেছে ৫০ হাজার ৯৭৩টি। এ সময় টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪ হাজার ৩০৩ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ২ হাজার ২৬ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
কভিড হাসপাতালে খালি বেড ও আইসিইউর তথ্য : বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোতে ৭ হাজার ৩৭টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৪ হাজার ৭৯৪টি ও ৩০৭টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৯৭টি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৭৮২টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫৬২টি ও ৩৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ১৮টি। এর বাইরে দেশের অন্যান্য কভিড হাসপাতালে ৭ হাজার ৪৩৬টি সাধারণ বেডের মধ্যে খালি আছে ৫ হাজার ৬০৭টি ও ১৯৯টি আইসিইউর মধ্যে খালি আছে ৯৮টি।
