প্রতিবেশী একজনকে কবিরাজ দেখাতে প্রাইভেট কার ভাড়া করে গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল যাচ্ছিলেন হাসিনা বেগম। সঙ্গী হয়েছিলেন তার ছেলে, বোন ও শাশুড়ি। পথিমধ্যে ভালুকায় সড়কে ইউটার্ন নিতে গেলে হালুয়াঘাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি বাস প্রাইভেট কারটিকে চাপা দেয়। এতে কারটিতে থাকা একই পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা ডিগ্রি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার রুদ্রপুর এলাকার আব্দুল করিমের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০), তার ছেলে হাসিবুল হাসান (৮), বোন নাজমা বেগম (২৬), শাশুড়ি জান্নাতি (৬০), প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেন (৫০) ও প্রাইভেট কারচালক রাজেন্দ্রপুর এলাকার মো. মনির (৫০)।
প্রত্যক্ষদর্শী আসিফ আলী শেখ বলেন, ‘সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনের মতোই দোকানে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কানে ভেসে আসে বিকট শব্দ। দেখি একটি প্রাইভেট কার ইউটার্ন নিচ্ছে আর বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতির একটি বাস এসে সেটিকে চাপা দিচ্ছে। মুহূর্তেই প্রাইভেট কারটি বাসটির ভেতরে ঢুকে যায়। এ সময় কারটিকে প্রায় ২০০ ফুট দূরে ঠেলে নিয়ে যায় বাসটি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। একসঙ্গে প্রাণ গেল ছয়জনের। এমন ভয়ানক দুর্ঘটনা জীবনেও দেখিনি।’
ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, প্রাইভেট কারটি পুরোটাই বাসটির ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। মূলত প্রাইভেট কারচালকের অসতর্কতা আর বাসটির বেপরোয়া গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মাঈন উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে প্রাইভেট কারযোগে ত্রিশাল যাচ্ছিল সবাই। পথিমধ্যে ভালুকায় চিকিৎসক দেখানোর জন্য প্রাইভেট কারটি মহাসড়কে ইউটার্ন নেয়। এ সময় হঠাৎ করেই ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইমাম পরিবহনের একটি বাস প্রাইভেট কারটিকে চাপা দেয়। এতে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ওই ছয়জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা গেলেও চালক পলাতক রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নিহতদের স্বজনরা। প্রিয়জন হারানো স্বজনদের কান্না যেন কিছুতেই থামছিল না। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ। দুর্ঘটনায় নিহত বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী হনুফা বেগমের (৩৫) সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। একমাত্র মেয়ে সানজিদা আক্তার রাফাকে (১৫) বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছিলেন। ‘তোমার মাইয়ারে কে দেখব। রোড অ্যাকসিডেন্ট আমার স্বামীরে চিরতরে কাইড়া নিল। আমরা অহন অসহায়। কে দেখব আমগোরে।’ বলতে বলতেই হাউমাউ করে কাঁদছিলেন হনুফা বেগম।
গাজীপুরে বাসের ধাক্কায় স্কুলছাত্র নিহত : গাজীপুরের কাশিমপুরে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোস্তাকিন অপু (১৬) নামে মোটরসাইকেল আরোহী এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। গতকাল দুপুরে নগরীর কোনাবাড়ী-নরসিংহপুর সড়কের সুড়াবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অপু ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ভাট্টা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। কাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার এসআই তাপস কুমার ওঝা জানান, গতকাল দুপুরের দিকে মোটরসাইকেলযোগে সাভার থেকে কাশিমপুর যাচ্ছিল অপু। পথে সুড়াবাড়ি এলাকায় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
