সৌর বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার: সোলশেয়ারের সোলবক্স মিটার

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২০, ০৯:৫৬ পিএম

বাংলাদেশের অনেক গ্রামেই এখন সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে। সাধারণত গ্রামের মানুষ তাদের ঘরে যে সোলার প্যানেল স্থাপন করেন, তাতে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ অব্যবহৃত থাকে। আর এই সৌর বিদ্যুৎ যাদের সোলার প্যানেল নেই তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করছেন বাংলাদেশের অন্তত ১৩টি গ্রামের বাসিন্দা।

সোলার প্যানেল থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ ব্যাটারির স্টোরেজে জমা হয়। কিন্তু একবার সেই ব্যাটারির ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেলে সোলার প্যানেলের বাকি বিদ্যুৎ আর জমা হয় না ।

আর এই অব্যবহৃত বিদ্যুতের যেন অপচয় না হয়, এটা বিক্রি করে অন্যের চাহিদা যেন মেটানো যায়-এমন ভাবনা থেকে এই সৌর বিদ্যুৎ ভাগাভাগির কাজটি শুরু করে সোলশেয়ার নামে বাংলাদেশি একটি স্টার্ট আপ।

তাদের তৈরি সোলবক্স মিটার নামের একটি ডিভাইস দিয়েই কাজটি হচ্ছে। প্রত্যেকটি ডিভাইস একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি মাইক্রোগ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। আর যাদের সোলার হোম সিস্টেম নেই তারাও যুক্ত হতে পারবেন এতে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত ২৭টি মাইক্রোগ্রিড স্থাপন করে তাদের ডিভাইস ইনস্টল করেছে সোলশেয়ার। তাদের তথ্য অনুযায়ী অন্তত তিন হাজার পরিবার এই সৌর বিদ্যুৎ ভাগাভাগির সুবিধা নিচ্ছে - যাদের বেশিরভাগই কৃষক।

যেহেতু বেশি টাকা খরচ হচ্ছে না, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ বিক্রি করা যাচ্ছে-প্রয়োজনে কেনা যাচ্ছে- তাই এই ডিভাইস স্থাপনে আগ্রহ দেখাচ্ছে অনেক এলাকার মানুষ।

আগামী ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার মাইক্রোগ্রিড পরিচালনা করার কথা ভাবছে সোলশেয়ার। আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত সব গ্রামে এ সুবিধা পৌঁছে দেয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এমন উদ্ভাবনের জন্য ইতোমধ্যে স্বীকৃতিও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জাতিসংঘের মোমেন্টাম ফর চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড, ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অ্যাশডেনের পুরস্কার পেয়েছে সোলশেয়ার।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত