বায়ার্ন মিউনিখের কাছে রেকর্ড ব্যবধানে হারের পর ঘর ভাঙা শুরু হয়েছে বার্সেলোনার। প্রথমেই কোচকে বিদায় করে যার শুরু। আমূল পরিবর্তনের কথা বলে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী তারকাদের ছাঁটাই করতে চাইছেন বার্সার পরিচালক-প্রেসিডেন্টরা। এ নিয়ে এতদিন চুপ ছিলেন বার্সার ফুটবলাররা। কিন্তু আর বসে থাকার পাত্র নন তারা। সবার আগে মুখ খুলেছেন লুইস সুয়ারেজ। জানালেন বায়ার্নের কাছে ৮-২ গোলে হারের ব্যর্থতা তার একার নয় বা খেলোয়াড়দের নয়। তবুও তাকে ত্যাগ স্বীকার করতে হলে তিনি করবেন। অবশ্য ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার নেই।
সামনের দলবদলের মৌসুমে অনেক পরিবর্তন করবে বার্সেলোনা। সেই পরিবর্তনের তালিকার পাশাপাশি যাদের রাখা হবে তাদের নামও বলা হয়। সেখানে প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোম্যু মাত্র চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। মেসিসহ সেই চারজনের তালিকায় নেই লুইস সুয়ারেজ, জেরার্ড পিকে, সার্জিও বুসকেতসদের মতো খেলোয়াড়রা। ব্যাপারটি মোটেও ভালো লাগেনি সুয়ারেজের। বার্সার ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। বলেছেন, যদি তাকে ছাঁটাই করতেই হয় তবে যেন তাকেই সরাসরি জানানো হয়। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না এমন কিছু ঘটছে, ততক্ষণ তিনি ক্যাম্প ন্যুতে নিজের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করে যাবেন।
ক্ষোভ উগরে সুয়ারেজ বলেন, ‘লিসবনে যেভাবে হেরেছি, তাতে সবাই দায়ী থাকব। শুধু একজন খেলোয়াড়কে দায়ী করা ঠিক হবে না। কিছু মানুষ একে ব্যক্তিগত বানিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয় না বার্সেলোনার প্রতি আমার নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলা সম্ভব। সভাপতি বেশ কিছু নাম বলেছেন। এ নিয়ে বেশ কথা হচ্ছে, অনেক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কিন্তু কেউ তো আমাকে বলেনি যে তারা আমাকে আর চায় না। যদি ক্লাব সত্যি সত্যি এটা চায়, তাহলে এসব সিদ্ধান্ত যিনি নেন, সেই পরিচালক এসে সরাসরি বলুক। বাইরে গুঞ্জন ছড়ানোর চেয়ে ভালো হয় সেটা। আমরা দেখি না কী হয়। আমিও ক্লাবের ভালোই চাই। আপাতত ক্লাবে থাকারই ইচ্ছা। কিন্তু ক্লাবের যদি মনে হয় আমাকে দরকার নেই, তাহলে এ নিয়ে কথা বলতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’
বায়ার্নের কাছে শোচনীয় হারের পরপরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে বার্তোম্যু বলেছিলেন, ‘কে বিক্রির জন্য নয়? লিওনেল মেসি। এটা সে জানে। সে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। টের স্টেগেন, সেমেদো, ডি ইয়ং, লংলে, দেম্বেলে, গ্রিজমানকে নিয়ে আমরা একই কথা ভাবছি (বিক্রির জন্য নয়)।’ কিন্তু তিনি সুয়ারেজের নাম করেননি। আর এ নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সুয়ারেজকে।
ক্যারিয়ারের সেরা সময় পেছনে ফেলে আসা সুয়ারেজ চুক্তি শেষ হওয়ার আগে ক্লাব ছাড়তে ইচ্ছুক না। ২০২১ পর্যন্ত বার্সার সঙ্গে চুক্তি আছে তার। মূল একাদশে স্থান না পেলে বা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামতে হলেও সমস্যা দেখছেন না তিনি, ‘গোটা ক্যারিয়ারে যখনই বেঞ্চে থাকতে হয়েছে, আমি মেনে নিয়েছি। এমন অনেকবারই হয়েছে আমার সঙ্গে। এতে আমার সমস্যা নেই। এটাকে আমি অন্য স্ট্রাইকারের সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতাই ভাবি। আমি এখনো মনে করি, আমার অনেক কিছু দেওয়ার আছে। তবে পরের মৌসুমে যদি এমনটা ঘটে (বেঞ্চে বসে থাকতে হয়), তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই।’ রোনাল্ড কোমানের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার কথাও জানিয়েছেন সুয়ারেজ, ‘নতুন কোচের সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি। তার ইচ্ছা কী জানতে পারিনি। তবে তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে আমি প্রস্তুত। যদি নতুন কোচ মনে করেন, আমার বদলি হিসেবে খেলা উচিত, তাতে আমার সমস্যা হবে না।’
যারা তার শেষ দেখে ফেলেছেন তাদের উদ্দেশ্যেও ক্ষোভে ভরা উক্তি ছুড়েছেন সুয়ারেজ। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘আমি তুলনা করতে পছন্দ করি না। তবে আমার মনে আছে, আয়াক্স আমস্টারডাম যখন রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে দিয়েছিল, তখন লোকেরা বলেছিল, টনি ক্রুস শেষ হয়ে গেছে, রামোস পুরোপুরি ব্যর্থ এবং তারা মদ্রিচের অবসর চেয়েছিল। অথচ এই মৌসুমে, সবকিছু আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। তারা আবারও আলো ছড়িয়েছেন এবং তারা শিরোপাও জিতেছেন। হেরে গেলে প্রত্যেকেই আপনার সমালোচনা করবে।’
