নিজেদের কোমানেই বিধ্বস্ত পিএসজি

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ০১:১৯ এএম

নিজেদের অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা কিংসলে কোমানের গোলে কপাল পুড়েছে পিএসজির। চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ। এটা একই সঙ্গে পিএসজির জন্য সুখের এবং দুঃখের খবর। পিএসজি থেকে উঠে এসে তিনি ২০১৪ সালে পারি জমান জুভেন্তাসে। সেখান বছরখানেক খেলার পর ধারে বায়ার্নে খেলতে গিয়েছিলেন কোমান। এরপর পাকাপাকি চুক্তিবদ্ধ হন। রবিবার তার গোলেই পিএসজির হারে টমাস টুখেল আফসোসে মাথা নাড়তে পারেন। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে দুই দামি ফুটবলারকে দিয়ে দল সাজানোর জন্যই পিএসজিতে জায়গা হয়নি কোমানের।

ইউরোপের সেরা ক্লাব হওয়ার জন্য অঢেল টাকা খরচ করেছে পিএসজি। দলে এনেছে নেইমার, এমবাপে, নাভাস, থিয়াগো সিলভা, মার্কুইনহোস, কাভানিসহ আরও অনেককে। তারকা সমাবেশ ঘটিয়ে তারা চেয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে। আগেরবার সফল না হলেও এবার ফাইনালে ওঠে পিএসজি। কিন্তু বায়ার্নের কাছে হেরে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায় তাদের। যার জন্য পিএসজির স্বপ্নভঙ্গ তার নাম কোমান। পিএসজির অ্যাকাডেমিতে যে বড় হয়েছে। খেলা শিখেছে।

কোমান মাত্র দশ বছর বয়সে পিএসজির অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। ছয় বছরের মধ্যে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মাঠে নেমে পিএসজির সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হন তিনি। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই পুরস্কারপ্রাপ্তির পরই দলে নিয়মিত হতে পারতেন কোমান। কিন্তু তারকার ভিড়ে পিএসজিতে জায়গা হয়নি তার। পরের বছর ক্লাব ছেড়ে জুভেন্তাসে যোগ দিতে বাধ্য হন। ততদিনে কোমানের প্রতিভা চিনে ফেলেছে বায়ার্ন। ধারে জুভেন্তাস থেকে তাকে নিয়ে যায় বাভারিয়ানরা। দুই বছর পর চুক্তিবদ্ধও করে। আরিয়েন রোবেন, ফ্রাঙ্ক রিবেরিদের উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। রবিবারের ফাইনালে আস্থার প্রতিদান দিলেন কোমান। কোচ হান্স ফ্লিক তাকে শুরু থেকে খেলান। গোল করে হন ম্যাচসেরা। ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। অনেক বেশি আনন্দের। আমি শতভাগ বায়ার্নের। তবে পিএসজির জন্য কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেছি।’ ছেলেবেলায় পিএসজি হারলে কান্না করতেন কোমান। এবার তার গোলে কান্না করতে করতে মাঠ ছেড়েছে পিএসজি। মূল্য না বুঝলে এভাবেই পস্তাতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত