সব আন্দোলনে ছিলেন আইভি রহমান : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২০, ০২:৩৫ এএম

সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তার ১৬তম শাহাদাতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আইভি রহমান দেশের প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমান ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবাদবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ২৪ আগস্ট মারা যান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আজকের এই দিনে আওয়ামী লীগের ২২ নেতাকর্মী বিশেষত আইভি রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও তাদের স্মরণ করছি, যারা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইভি রহমান আওয়ামী লীগের প্রতিটি  সভা-সমাবেশে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গেই বসতেন। তার মতো এমন একজন চমৎকার নিরহংকারী মানুষের মৃত্যুকে মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের।’ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরও বলেন, ‘আইভি রহমান স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে রাজনীতি করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৪ আগস্ট আইভি রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে, কারণ ২০০৪ সালের এদিনেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আমরা জানতেও পারিনি আমাদের এ নেত্রী কখন মারা গেছেন। কারণ ২১ আগস্ট ঘৃণ্য ওই গ্রেনেড হামলার পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরও বলেন, ‘২১ আগস্টের ওই গ্রেনেড হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের চার নেত্রীসহ আমাদের ২২ নেতাকর্মী প্রাণ হারান। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা যায়নি। কেউ তাদের লাশ নিতেও আসেনি। তারা সন্দেহজনক হামলাকারী হতে পারে অথবা অন্য কেউও হতে পারে। এতে আমাদের আরও ৬০০ থেকে ৭০০ নেতাকর্মী আহত হয়েছিলেন। আহতদের অবস্থা ছিল গুরুতর। অনেকেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও মারা যান। কারণ তারা দেহে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বহন করছিলেন।’

ভৈরবে আইভি রহমানের ১৬তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত : সাংগঠনিক ও পারিবারিক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আইভি রহমানের ১৬তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ভৈরব উপজেলা ও শহর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বাদ ফজর থেকে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র কোরআন খতম।

এছাড়া দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। নেতাকর্মীরা ধারণ করেন কালোব্যাজ। সকাল ৯টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব ট্রমা সেন্টারসংলগ্ন আইভি রহমানের স্মৃতিভাস্কর্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

এরপর সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. সায়দুল্লাহ মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জাহাঙ্গীর, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের একান্ত সচিব মো. শাখাওয়াত উল্লাহ, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম বাকী বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ প্রমুখ।

এছাড়া সকালে মরহুমার নিজ বাড়ি শহরের ভৈরবপুরের আইভি ভবনে হয় মিলাদ ও দোয়া। দুপুরে শোকসভা, দোয়া মাহফিল ও কাঙালিভোজের আয়োজন করা হয় তার বাবার বাড়ি শহরের চণ্ডিবের এলাকার কামাল সরকার বাড়িতে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও স্থানীয় মুর্শিদ-মুজিব উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জুলফিকার আলী কাইয়ুমের সভাপতিত্বে শোকসভায় বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্যানেল-চেয়ারম্যান মির্জা মো. সুলায়মান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. সিরাজউদ্দিন আহমেদ, মো. সেলিম খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, ভৈরব চেম্বারের সভাপতি মো. হুমায়ূন কবির প্রমুখ। সভায় বক্তারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আপিল নিষ্পত্তির মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত