স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা এক রিপোর্টারের মুখে ঘুষি মারার হুমকি দেওয়ার পরের দিন আবার সংবাদকর্মীদের যাচ্ছেতাই বলে গালিগালাজ করলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো।
‘ব্রাজিল বিটিং কভিড’ নামক এক অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় বলসোনারো বলেন, সাংবাদিকেরা ‘শয়তান’ ও ‘লম্পট’। শুধু তাই নয়, ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের দাবি সাংবাদিকদের ‘পশ্চাদদেশে চর্বি জমে গেছে’।
করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে ব্রাজিল অন্যতম। বৈশ্বিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয়স্থানে আছে দেশটি। আক্রান্ত ছাড়িয়েছে, ৩৬ লাখ ২৭ হাজার; মৃত্যু ১ লাখ ১৫ হাজার।
গত জুলাইয়ে নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলসোনারো। তার দাবি, সেনাবাহিনীতে ক্যাপটেন হিসেবে থাকার সময় শরীর অ্যাথলেটদের মতো ফিট রাখার জন্যই এই ভাইরাস থেকে সহজে আরোগ্য লাভ করেছেন তিনি।
উপস্থিত সাংবাদিকদের ভ্রুকুটি কেটে বলসোনারো বলেন, “আপনাদের মধ্যে যাদের পশ্চাদদেশে চর্বি জমে গেছে তারা আক্রান্ত হলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। আপনারা কেবল জানেন, কিভাবে আপনাদের কলম বাজে উদ্দেশে ব্যবহার করতে হয়।”
একদিন আগে রোববার এক সাংবাদিকের ওপর চটেছিলেন ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র ‘ও গ্লোবোর’ এক প্রতিবেদক ফার্স্ট লেডি মিশেল বোলসোনারোর বিরুদ্ধে ওটা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই ক্ষেপে যান প্রেসিডেন্ট বলসোনারো।
“তোমার মুখে ঘুষি মারতে ইচ্ছে করছে।”
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নানা ইস্যুতে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন বোলসোনারো। তার আচার-আচরণ অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় ৬৫ বছর বয়সী এই অতি ডানপন্থী রাজনীতিককে ‘ট্রপিক্যাল ট্রাম্প’ বলে উল্লেখ করা হয়।
ব্রাজিলের ন্যাশনাল জার্নালিস্ট ফেডারেশন জানিয়েছে, গত এক বছরে ১১৬ বার সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বোলসোনারো।
একটি বিবৃতি দিয়ে সংগঠনটি বলেছে, “একজন সাংবাদিকের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট আরও একবার দ্বিধাহীন চিত্তে আগ্রাসী আচরণ করলেন, এটি দুঃখজনক। এই আচরণ সংবিধান স্বীকৃত বাক-স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।”
