সিআইডির অনুসন্ধান

প্রতারণা করে সাহেদ হাতিয়েছেন ১১ কোটি টাকা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ০২:৩৯ এএম

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে মামলা করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিআইডির অনুসন্ধান তথ্যমতে, ৫ বছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন সাহেদ। বিশেষ করে করোনার সময়ে ভুয়া নমুনা পরীক্ষা ও সনদ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩ কোটি টাকারও বেশি।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জিসান জানান, সাহেদ ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া করোনার ভুয়া পরীক্ষা এবং জাল সনদ প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি তার অপরাধকর্মের প্রধান সহযোগী মাসুদ পারভেজের সহযোগিতায় রিজেন্ট ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল লিমিটেডের নামে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শাহ মখদুম শাখায় একটি নতুন হিসাব খোলেন গত ফেব্রুয়ারি মাসে। হিসাবটি পরিচালনা করতেন সাহেদের বাবা সিরাজুল করিম ও প্রতিষ্ঠানটির এমডি মাসুদ পারভেজ।

সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, অনুসন্ধানে সাহেদের অর্জিত সম্পদের প্রধান উৎস প্রতারণা ও জালিয়াতি বেরিয়ে আসে। অপরাধলব্ধ আয় লেনদেনের সুবিধার্থে তিনি রিজেন্ট হাসপাতাল, রিজেন্ট কেসিএস লিমিটেড ও অন্যান্য অস্তিত্ববিহীন ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৩টি ব্যাংক হিসাব খুলে পরিচালনা করেন। ওই ব্যাংক হিসাবসমূহ খোলার সময় কেওয়াইসি ফরমে সাহেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠানসমূহের চেয়ারম্যান বা স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে বলা হয়, কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নগদ টাকা জমা হয় সাহেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৪৩টি ব্যাংক হিসাবে। এসব হিসাবে মোট ৯১ কোটি ৭০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। এর মধ্যে তুলে নেওয়া হয় ৯০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে তার হিসাবসমূহে বর্তমান স্থিতির পরিমাণ ২ কোটি ৪ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৮০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। আসামি মাসুদ পারভেজ ১৫টি ব্যাংক হিসাবে ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা জমা দিয়ে তুলে নেন। ওই হিসাবে বর্তমান স্থিতি ৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ রূপান্তর এবং ভোগবিলাসে অর্থ ব্যয় করার অপরাধে অরগানাইজড ক্রাইম (ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম), সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় মামলা করবে।

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী আবুল কালাম মঙ্গলবার রাত ৮টায়  দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলা করার জন্য সিআইডির কোনো কর্মকর্তা এখনো আসেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত