১৫ আগস্ট হত্যাকান্ড নিয়ে কিছু জরুরি প্রশ্ন

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ১২:২৪ এএম

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যদের যে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন রহস্য এখনো অনির্ণীত। সেই ষড়যন্ত্র সম্পর্কে কেন আগে জানা যায়নি এবং হত্যাকান্ড গুলোর পর কেন প্রতিরোধ হয়নি তা অনেক প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন প্রশ্ন আলোচনার আগে সেই সময়ের বিদ্যমান রাজনৈতিক অবস্থা সংক্ষেপে উল্লেখ করা প্রয়োজন। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে সরকার বাকশাল নিয়ে ব্যস্ত। জাসদ এবং অন্য কয়েকটি বামপন্থি দল তখন সরকারের বিরোধিতা করছে। পাকিস্তানপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোও ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। তাজউদ্দীন আহমদের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতা তখন মন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন দ্বন্দ্বের কারণে নিশ্চিন্তে ছিলেন না শেখ মণি, তোফায়েল আহমদদের মতো নেতারাও। দেশে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমদ এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী। অথচ মোশতাক এবং তার সঙ্গীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন গঠনের জন্য গোপনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

স্বাধীনতার পর অস্ত্র উদ্ধার, চোরাচালান বন্ধ করা প্রভৃতি অভিযান পরিচালনার সময় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অফিসারের সঙ্গে সরকারি দলের কিছু নেতার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর অধিনায়ক হিসেবে এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন সামরিক অফিসার স্বাধীনতার পরই বিভিন্ন কারণে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন। সরকারের অপছন্দের কারণে কাউকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠিত হওয়ার পর সেনাবাহিনীর গুরুত্ব কমে যাবে কি না তা নিয়ে সেনাসদস্যদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল এমন কথাও শোনা যায়। অন্যদিকে, পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছিল ২৫ হাজার সেনাসদস্য যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের জ্যেষ্ঠতা প্রদানের কারণে পাকিস্তান-প্রত্যাগতরা সরকারের প্রতি বিরূপ ছিলেন এমন কথা শোনা যায়। আবার, বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারের সঙ্গে সরকারের দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার কারণে তাদের অনুসারীরা সরকারের প্রতি অসন্তষ্ট ছিলেন কি না এই প্রশ্নও তৈরি হয়।

১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ দিনটি ছিল শুক্রবার, যেদিন দেশের মানুষ অনেকটাই ছুটির মেজাজে থাকে। সেদিন ভারতের স্বাধীনতা দিবস, তাই ভারতের সরকারও সেদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যস্ত। ওই দিন বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুকে বরণ করার জন্য ব্যস্ত ছিলেন। ১৪ আগস্ট যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সাজানোর কাজ চলছিল তখন সেখানে দুটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। ফলে, পুলিশ ও রক্ষীবাহিনী পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়েছিল।

সেই সময় রক্ষীবাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার নূরুজ্জামান দেশে ছিলেন না। তার অবর্তমানে দ্রুত কোনো জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা রক্ষীবাহিনীর জন্য সহজ হবে না এমনটাই স্বাভাবিক। সেই সময় বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিবের পদ থেকে সদ্য ডিজিএফআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ। বিদায়ী ডিজিএফআই প্রধান ব্রিগেডিয়ার রউফের কাছ থেকে তিনি তখনো দায়িত্ব বুঝে নেননি। কর্নেল জামিল বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাও ছিলেন, এবং এই দায়িত্বে তার স্থলে আসা লে. কর্নেল হারুন আহমেদ চৌধুরীকে তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব হিসেবে নিযুক্তি পেয়েছিলেন কর্নেল মশহুরুল হক। ফলে, একাধিক সামরিক কর্মকর্তা বিভিন্ন নতুন দায়িত্বে সদ্য আসার সময়টিতেই অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। এই বিভিন্ন দিক এমনই ইঙ্গিত বহন করে যে, বঙ্গবন্ধু এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বাড়িতে হামলা করার জন্য ১৫ আগস্ট দিনটি ঘাতকচক্র চিন্তাভাবনা করেই বেছে নিয়েছিল।

১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল ঢাকা সেনানিবাসে নিযুক্ত দুটি ইউনিট  ট্যাংক রেজিমেন্ট ফার্স্ট বেঙ্গল ল্যান্সারস আর গোলন্দাজ রেজিমেন্ট সেকেন্ড ফিল্ড আর্টিলারি। ট্যাংক রেজিমেন্টটির উপ-প্রধান ছিলেন তৎকালীন মেজর ফারুক রহমান আর গোলন্দাজ রেজিমেন্টটির প্রধান ছিলেন তৎকালীন মেজর আবদুর রশিদ। এই দুজন অফিসার বঙ্গবন্ধু হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সক্রিয়ভাবে। দুজন মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারের (কর্নেল শাফায়াত জামিল এবং মেজর নাসির উদ্দিন) লেখা থেকে জানা যায়, ফারুক ১৯৭৩ সালে এবং ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসেও ট্যাংক নিয়ে অভ্যুত্থান ঘটাতে চেয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন অফিসাররা ফারুকের এমন ইচ্ছার কথা জেনেছিলেন। তার পরও ফারুকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা তো দূরের কথা, তাকে ট্যাংক রেজিমেন্টের দায়িত্বেই রাখা হয়। প্রশ্ন তৈরি হয়, ফারুকের বিরুদ্ধে সামরিক কর্তৃপক্ষ কখনোই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন?

ফারুকের এক ভিডিও সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার কথা ফারুক ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসেই সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপ-প্রধান জেনারেল জিয়াকে জানিয়েছিলেন। জিয়া তখন বলেছিলেন, যদি কনিষ্ঠ অফিসাররা এমন কিছু করতে চায় তারা তা করতে পারে। সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস ১৯৭৬ সালে ফারুকের এমন দাবি সত্য কি না তা জেনারেল জিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে জিয়া ফারুকের এই কথা সত্য বা মিথ্যা এর কোনোটাই বলেননি। মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফশুলৎজ লিখেছেন, তিনি এক সূত্রের মাধ্যমে জেনেছেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সাত অথবা দশ দিন আগে ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে জেনারেল জিয়া আর ঢাকায় নিযুক্ত সিআইএর তৎকালীন স্টেশন প্রধান ফিলিপ চেরির আলোচনা হয়েছিল।

১৫ আগস্ট মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট হেনরি কিসিঞ্জার, সহকারী সচিব আথারটন, আর ব্যুরো অফ ইনটেলিজেন্স রিসার্চ-এর প্রতিনিধি হাইল্যান্ডকে নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভার কথোপকথন থেকে জানা যায় বাংলাদেশে একটি অভ্যুত্থান হতে যাচ্ছে এই ব্যাপারে ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট ধারণা পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছিল কি না কিসিঞ্জারের এমন প্রশ্নের জবাবে আথারটন জানান, বঙ্গবন্ধুকে তখনই এ সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। তবে হাইল্যান্ড জানান, কারা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছে সেই নামগুলো অবশ্য তখন স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। আথারটন এরপর বলেন, বঙ্গবন্ধু এই কথায় কোনো গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে এমন অভ্যুত্থান কেউ করবে না।

১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডে মার্কিন সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাই অস্পষ্টতা তৈরি হয়। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থনই করবে তাহলে তারা ১৯৭৫-এর মার্চে বঙ্গবন্ধুকে তার বিরুদ্ধে একটি অভ্যুত্থান হতে পারে এই কথা জানিয়েছিল কেন? ১৯৭৫ সালে মাহবুব তালুকদার রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের প্রেস উইংয়ে কর্মরত ছিলেন। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থায় চাকরিরত তার এক আত্মীয় ১৫ আগস্টের কয়েকদিন আগে মাহবুব তালুকদারকে জানিয়েছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুকে সরানোর গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার সাধারণ পদে কর্মরত সেই ব্যক্তি উদ্বিগ্ন হয়ে অনুরোধ করেছিলেন যেন এই কথা বঙ্গবন্ধুকে জানানো হয়। বঙ্গবন্ধুকে না জানালেও মাহবুব তালুকদার এই কথা শেখ মণিকে জানান। কিন্তু শেখ মণির কাছে মনে হয়েছিল এই খবর ‘অ্যাবসার্ড।’ তিনি আরও বলেছিলেন ‘এ সমস্ত আজগুবি খবর বলে বঙ্গবন্ধুকে বিড়ম্বিত করা ঠিক না।’

বঙ্গবন্ধুকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের কথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানতে পেরেছিল। জেনেছিল গোয়েন্দা সংস্থায় সাধারণ পদে কর্মরত একজন ব্যক্তিও। অথচ দেশের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা এমন গভীর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে কোনো কিছুই আঁচ করতে পারেননি? নাকি জানার পরেও সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল? যদি তাই হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করছিল তখন? ফারুকের বক্তব্য অনুযায়ী জেনারেল জিয়া অভ্যুত্থান পরিকল্পনার কথা জানতেন। কিন্তু সেনাবাহিনীর অন্য ঊর্ধ্বতন অফিসাররা এবং গোয়েন্দা ইউনিটগুলো ফারুক-রশিদদের পরিকল্পনা এবং সেই সম্পর্কে জিয়ার ধারণা থাকার ব্যাপারে কিছুই জানতে পারেনি তা কি বিশ্বাসযোগ্য? বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর মেজর ডালিম একজন সামরিক অফিসারের সঙ্গে (তৎকালীন মেজর সাখাওয়াত হোসেন) কথোপকথনের সময় জানিয়েছিলেন এই অভ্যুত্থানের ব্যাপারে সিনিয়র অফিসারদের সমর্থন তারা আদায় করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ১৫ আগস্ট প্রহরার জন্য সেনা সদর নিয়োজিত করেছিল কুমিল্লা ব্রিগেড থেকে আনা ফার্স্ট ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টের সৈনিকদের। প্রশ্ন উঠতেই পারে, ঢাকায় ৪৬ ব্রিগেডের অধীনে বিভিন্ন রেজিমেন্ট থাকলেও বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রহরার জন্য সেই মাসে কুমিল্লা ব্রিগেড থেকে সৈনিক আনা হয়েছিল কেন? বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে যুক্ত মেজর ডালিম আর মেজর বজলুল হুদা ফার্স্ট ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টের পুরনো অফিসার। জানা যায়, আক্রমণকারীদের মধ্যে তাদের রেজিমেন্টের প্রাক্তন অফিসারদের দেখার পর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রহরারত সৈনিকরা আক্রমণকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেনি। উল্লেখ্য, সেই রাতে ঢাকা সেনানিবাসে ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিলের বাসার গার্ড ডিউটিতে ছিল অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সেকেন্ড ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টের সৈনিকরা। ব্যাপারটি কি নেহাতই কাকতালীয়?

দেশের রাষ্ট্রপতি, মহিলা এবং শিশুসহ তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্য, রাষ্ট্রপতির প্রাক্তন সামরিক সচিব এবং রাষ্ট্রপতির বাড়িতে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এই সংবাদ জেনে যদি পুরো সেনাবাহিনী ক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত হয়ে থাকে তাহলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কয়েক ঘণ্টা পর যখন মেজর ডালিম এবং মেজর ফারুক ঢাকা সেনানিবাসে প্রবেশ করেছিলেন, তখন তাদের গ্রেপ্তার করার কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি কেন? বরং জানা যায়, বিভিন্ন অফিসাররা ফারুককে তখন ঘিরে ধরে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। অভ্যুত্থানকারীদের নিয়ন্ত্রণে ট্যাংক ছিল বলে তাদের প্রতিরোধ করা যায়নি, এমন দাবিও অযৌক্তিক কারণ দ্রুতই জানা গিয়েছিল, সেই ট্যাংকগুলোতে কোনো গোলা নেই। ফারুক ট্যাংকে কেবল মেশিনগান যুক্ত করেই অভ্যুত্থান করেছিলেন। অভ্যুত্থানকারীদের কাছে বিধ্বংসী গোলা নেই তা জানার পরও তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করা হয়নি কেন? বরং সেই সময় রাজেন্দ্রপুর অর্ডন্যান্স ডিপো থেকে ট্যাংকগুলোর জন্য গোলা আনার নির্দেশ সেনাবাহিনী থেকে দেওয়া হয়েছিল। অভ্যুত্থানকারীদের দখলে থাকা ট্যাংকগুলোর জন্য গোলা আনার নির্দেশ দেওয়া হলেও জানা যায় ১৫ আগস্ট রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা পিলখানায় বিডিআর অস্ত্রাগারে সাময়িকভাবে রাখা তাদের গোলাবারুদ আর অস্ত্র আনতে গেলে তাদের তা দেওয়া হয়নি।

এই লেখায় উল্লেখ করা প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা। এসব প্রশ্নের নিবিড় অনুসন্ধান জরুরি, কারণ যাদের অশুভ ষড়যন্ত্র এবং বর্বরতার জন্য ১৫ আগস্টের নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডগুলো ঘটেছিল তাদের সম্পর্কে এই দেশের মানুষের যথাযথ ধারণা থাকা দরকার। 

লেখক অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত