‘আয়নাবাজি’ বাজিমাত করার পর মেধাবী বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজার প্রতি দর্শকের উচ্চাকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তিনি অল্প সময়ের ব্যবধানে নতুন আরেকটি সিনেমা উপহার দিতে পারেননি। কিন্তু কথায় আছে, সবুরে মেওয়া ফলে। তাই দর্শক এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার পরের সিনেমা ‘রিকশা গার্ল’-এর জন্য। নানা কারণে সিনেমাটি এরই মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছে। আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এ সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা নভেরা চৌধুরী। তিনি সিনেমায় একেবারেই নতুন। কিন্তু অভিনয়ের সঙ্গে সংযোগ অনেক দিনের। রক্তেই তার অভিনয়। গুণী অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর মেয়ে। মায়াবী মুখশ্রী আর উজ্জ্বল দুটি চোখ দর্শককে সহজে কাছে টেনে নেয়। আর সিনেমা নির্মাতা অমিতাভ রেজা কাজ শেষ করার পর থেকে এই নবাগতার ভূয়সী প্রশংসা করে চলেছেন।
সিনেমাতে নভেরার চরিত্রের নাম নাইমা। স্বাধীনচেতা দুরন্ত এক কিশোরী। রিকশাচালক পিতার বড় মেয়ে সে। মফস্বলে বেড়ে ওঠা নাইমার জীবন রং-তুলির মতোই বর্ণিল। সব রং মিলেমিশে সেই তুলি দিয়ে অঙ্কিত হয় সুন্দর সুন্দর সব আলপনা। নাইমা আলপনা এঁকে অল্প উপার্জন করে। তাতে তার পরিবারের দুর্দশা দূর হয় না। চোখে স্বপ্ন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। শুরু হয় নতুন নতুন সব অভিজ্ঞতা। শুরু হয় রিকশাকন্যার সাহসী যাত্রা।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য আপনাকে কীভাবে খুঁজে পেলেন অমিতাভ রেজা? জানতে চাইলে নভেরা বলেন, ‘আমার সঙ্গে এক জায়গায় তার দেখা হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম নাটক নিয়ে পড়াশোনা করেছি। পরে তো আমি রুবাইয়াত হোসেনের মেড ইন বাংলাদেশে অভিনয় করি। সেটি দেখে অমিতাভ রেজা হয়তো আমাকে নিয়ে কাজের ব্যাপারে আস্থা পান। কারণ রুবাইয়াত আপু অনেক বেশি ন্যাচারাল অ্যাকটিং পছন্দ করেন। আমি যেহেতু সেই ডেলিভারিটা দিতে পেরেছি, রিকশা গার্লেও পারব এটা মনে করেছেন অমিতাভ রেজা।’
নাইমা চরিত্রের প্রস্তুতি নিয়ে নভেরা বলেন, ‘প্রথমে যেদিন রিকশা চালানোর প্র্যাকটিস করতে যাই, আমি প্যাডেলই নাড়াতে পারছিলাম না। একদিকে অল্প সময়ের মধ্যে আমার ওজন কম করতে হচ্ছিল, সেই সঙ্গে শরীর মজবুত করতে হয়েছিল, যাতে রিকশা ঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে পারি। কাজ করতে গিয়ে কোনো অসুবিধা হয়নি। অমিতাভ রেজা আর আমার ধারণাগুলো মিলে যাচ্ছিল, তাই আমরা দুজন মন খুলে গল্পটি নিয়ে খেলতে পেরেছি।’
সিনেমাটিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে নভেরা বলেন, ‘গল্পের প্রয়োজনে বস্তির একটি সেটের প্রয়োজন হয় রিকশাগার্লের। তাই শতাধিক বস্তিঘর তৈরি করার মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে বস্তির সত্যিকার অবয়ব। গাজীপুরের ১০৫ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটিতে তৈরি করা হয়েছে সেই বস্তি। যে বস্তিতে শোভা পাচ্ছে দোকানপাট, রিকশা গ্যারেজ, এখানে-ওখানে এঁটে রাখা সিনেমার পোস্টার আরও কত কী!’
মিতালি পার্কিন্স-এর বেস্টসেলার বই রিকশা গার্ল অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ছবিটি। উপন্যাস থেকে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন শর্বরী জোহরা আহমেদ। তিনি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’র অন্যতম চিত্রনাট্যকার। অমিতাভ রেজা ছাড়াও ছবিটি প্রযোজনা করছেন মার্কিন প্রযোজক এরিক জে অ্যাডামস। এতে আরও অভিনয় করছেন গুলশান আরা চম্পা, মোমেনা চৌধুরী, নরেশ ভূঁইয়া, নাসির উদ্দিন খান, এলেন শুভ্র, রূপকথা, অশোক বেপারিসহ অনেকেই।
এর আগে নভেরা সিনেমা, তথ্যচিত্র ও টিভি নাটকে অল্প বিস্তর অভিনয় করেছেন। মঞ্চনাটকের সঙ্গেও যুক্ত আছেন। নাটক নিয়ে কানাডা থেকে ডিপ্লোমা করা নভেরা এর আগে অভিনয় করেছেন রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ছবিতে। নভেরা বলেন, ‘আমার কোনো কাজ এখন পর্যন্ত দর্শক দেখতে পাননি। তাই আমি কতটা যোগ্য বা অযোগ্য সেটাও কেউ জানে না। সুতরাং প্রচার দিয়ে কী হবে।’
নভেরা জানালেন, করোনার জন্য রিকশা গার্ল দর্শকের সামনে আনতে বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু নির্মাতাদের ইচ্ছা সিনেমাটি আগামী বছরের গ্রীষ্মে মুক্তি দেওয়ার। এর আগে বিশ্বের কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে যাবে সিনেমাটি।
