স্থূলকায়দের করোনা টিকা কাজে দেবে না!

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ০২:২৩ এএম

স্থূলকায় ব্যক্তিদের মধ্যে করোনাভাইরাসে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এসব মানুষের শরীরে টিকা দিলেও খুব একটা কার্যকর ফল দেবে না। করোনা সংক্রমণের বৈশ্বিক তথ্য ব্যবহার করে তুলনামূলক এক গবেষণায় এমন দাবি করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে দি গার্ডিয়ান। গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, স্থূলকায় ব্যক্তির করোনা ঝুঁকির ক্ষেত্রে তাদের আগের ধারণা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে করা এই গবেষণা স্থূলকায়রোধে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের সরকারগুলোর ওপর চাপ তৈরি করবে। ইতিমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দেশটির নাগরিকদের ওজন কমানোর একটি কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা বেশি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্যে ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ স্থূল। আর লন্ডনে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই সংখ্যা ২৭ শতাংশের বেশি।

দি ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার এই গবেষণায় বলা হয়েছে, স্থূলকায় যারা, তাদের মধ্যে করোনায় মৃত্যুঝুঁকি ৪৮ শতাংশ বেশি। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ব্যারি পপকিন বলেন, ‘এই তথ্যে আমিও অবাক হয়েছি। করোনায় স্থূলকায়দের মৃত্যুর এই ঝুঁকি যে কোনো সময়ের ধারণার চেয়ে বেশি। এটি আমার ওপরও বেশ প্রভাব ফেলেছে। খুব সহজেই এই হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং তা হবে খুবই ভয়ংকর।’

সহকারী গবেষক অধ্যাপক মেলিন্ডা বেক বলেন, ‘স্থূল ব্যক্তিদের এমনিতেই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। নানা রোগে তাদের প্রায়ই হাসপাতালে যেতে হয়। ফলে করোনা প্রতিরোধে যে ধরনের টিকারই উন্নয়ন করা হোক না কেন স্থূলকায়দের ক্ষেত্রে এটি খুব একটা কার্যকর হবে না।’

ইতালি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করা হলেও স্থূলতার সমস্যা বিশ্বজুড়ে এবং এখন পর্যন্ত কোনো দেশ এই সমস্যা সঠিকভাবে সমাধান করতে পারেনি।

এদিকে জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যে, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৪১ লাখ ছাড়িয়েছে। এ সময়ে মারা গেছেন ৮ লাখ ২৪ হাজারের বেশি। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ৬৬ লাখের বেশি মানুষ।

আমেরিকার দুই মহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এখনো দ্রুত বাড়ছে। ইউরোপে নতুন করে প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও এখন এখানে আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮৩। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৪২ জনের। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৯। এর মধ্যে ৫৯ হাজার ৭৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তরুণদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত