ডানক্যান ও ক্যারির আশাবাদের পৃথিবী

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ০১:০৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত খাবারের ব্র্যান্ড ডানক্যানের দাতব্য তহবিলের প্রধান ক্যারি ম্যাকিউ। তার মাধ্যমে ডানক্যান’স জয় ফর চাইল্ডহুড ফাউন্ডেশন ১.২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান দিয়েছে। তাদের কার্যক্রম নিয়ে লিখেছেন ওমর শাহেদ

ক্যারি ম্যাকিউ

ক্যারি ম্যাকিউ শিশুসেবার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। এখন মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য কাজে ব্যস্ত। শুরু থেকে আছেন সামনের সারিতে। অনুভব করেছেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অনেক প্রকল্প সামলে রোগটির বিপক্ষে দাঁড়াতে আলাদা তহবিল দরকার। তাই তহবিল জোগানোর কাজ করছেন। এমনকি খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পগুলোতেও অনুদান পৌঁছে দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বহুজাতিক কফি ও ডোনাট কোম্পানি ‘ডানক্যান’ ব্র্যান্ডের দাতব্যসেবা ‘ডানক্যান’স ব্র্যান্ড জয় ফর চাইল্ডহুড’র তিনি নির্বাহী পরিচালক। প্রধান কাজ এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যেসব শিশু খেতে পায় না, কঠিন ও চিরস্থায়ী রোগে ভোগে; তাদের শৈশব আনন্দময় করা। যুক্তরাষ্ট্রে ডানক্যান মিলিয়ন, মিলিয়ন ডলারের দান শিশুদের হাসপাতালগুলোতে পৌঁছে দেয়; নিখরচার খাবার বিলানো সংগঠনগুলোর পাশে দাঁড়ায়। ১৩ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা যাওয়া ছেলের স্মৃতিতে গড়া মাইকেল সি. ম্যাকিউ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের তিনি সভাপতি। নার্সদের জন্য অনুদান কমিটির প্রধান। ক্যারি জন্মেছেন ব্রিটেনে, লন্ডনের অ্যাকটেনে। দুই ভাই, দুই বোন। তিনি পড়েছেন বোর্ডিং স্কুল ‘লরেন্স অ্যাকাডেমি’তে। পরে বিখ্যাত ‘সেন্ট অ্যান্ড্রুজ ইউনিভার্সিটি’তে উচ্চতর শিক্ষা নিতে ভর্তি হয়েছেন। স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের বিশ্ববিদ্যালয়টি ইংরেজি ভাষার তৃতীয়, গ্রেট ব্রিটেনের চতুর্থ সবচেয়ে পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়। বরাবরের পড়ুয়া নারীটির অনুপ্রেরণা ‘ওহ দি প্লেসেস ইউ’উল গো’। লেখক ড. সুস। শিশুসাহিত্যের সর্বকালের সেরা অনেক বইয়ের রচয়িতা সুসের। এ বইগুলো তিনি পড়েছেন হাইস্কুল পাস করে। তার জীবনের মোড় ঘোরানো এ বইটি ধার দিয়েছিলেন এক বন্ধু। সংকটে পড়লে সবাই পড়তে বলেন বইটি। জানান, যে কারও জীবনের উত্থান-পতনের বড় সহায় হবে এটি। তার মনে দাগ কেটেছিল ডানক্যানের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জন লুথারের একটি আপ্তবাক্য। সবসময় বলতেন‘সত্য বললে উতরে যাবেন।’ সত্যের ওপর চলেন ক্যারি। সারা জীবন বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিলেও অনেকগুলো তার ভুলের ফলাফল। স্বীকার করে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখেন, সবকিছুই সততায় মোকাবিলা করেছেন, প্রতারণার শিকার হলেও সত্য তাকে খারাপ অবস্থা থেকে বেরুতে সাহায্য করেছে। তার জীবনের নায়ক লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। আধুুনিক বিজ্ঞানের জনক। বড় ও ছোট সমস্যাগুলোর সমাধানে সমান জোর দিয়েছিলেন তিনি। প্যারাস্যুট আবিষ্কার করেছেন বলেও তাকে ভালোবাসেন।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে

মহামারীর শুরু থেকে ক্যারি কাজ করছেন সম্মুখযোদ্ধা হিসেেেব। মনে পড়ে ‘মার্চের মাঝামাঝিতে আস্তে আস্তে মানব জীবনের সব অবলম্বন বন্ধ করে দিতে শুরু করল করোনাভাইরাস। হঠাৎ জরুরি খাদ্য সাহায্যের ফুড ব্যাংকগুলোতে অসংখ্য মানুষ খাবারের সাহায্য চাইতে লাগল। অনেক আমেরিকানকে জীবনে প্রথম পরিবার বাঁচাতে জরুরি ত্রাণ সাহায্যের এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হতে হলো। ফলে ওরাও হতভম্ভ হয়ে গেল। সবাইকে দেওয়ার মতো খাবার নেই তাদের।’ ক্যারি টের পেলেন, এসব অসহায়কে দ্রুত আর্থিক সহযোগিতা করতে হবে। সারা দেশের ক্ষুধার্তদের গুরুত্ব দিয়ে বাঁচাতে হবে। তখন ঘণ্টায় ঘণ্টায় সাহায্যপ্রার্থী বাড়ছে। ফলে মহামারীর শুরুতেই ‘দি ডানক্যান’স ব্র্যান্ড জয় ইন চাইল্ডহুড ফাউন্ডেশন’ দেরি না করে কাজে নামল। তারা অলাভজনক অংশীদারদের সঙ্গে আলাপ শুরু করলেন। চাহিদাগুলো জানলেন। পরিষ্কার হলেনজরুরি খাদ্য ও স্বাস্থ্য সাহায্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় খাবার, নানা ধরনের সাহায্য পৌঁছানো ও প্রয়োজনগুলো মেটাতে দ্রুত আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সাহায্য দেওয়া হলো সাধ্যমতো। এরপর জানলেন, অভাবীদের চাহিদা বাড়ছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করা তাদের পক্ষেও কঠিন হয়ে গেল। কেননা গতানুগতিক অনুদান প্রক্রিয়ায় তারা কাজ করেন না। তারপরও জীবন বাঁচাতে তারা জরুরি সাহায্যের আবেদনগুলো মঞ্জুর করলেন। ডানক্যান ফাউন্ডেশন মোট ১.২৩ মিলিয়ন ডলারের বিরাট জরুরি অনুদান দিয়েছে। ক্যারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবীদের নেত্বত্ব দিয়েছেন। প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের চেক দেওয়া শুরু করেছেন। তখন ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দিয়েছেন মোট আড়াই লাখ ডলার। রাতারাতি চেকগুলো পাঠানো হলো, যাতে দ্রুত ভালোভাবে কাজে নামতে পারে স্বেচ্ছাসেবীরা। দফায়, দফায় জরুরি সাহায্য পেয়ে সংগঠনগুলো খাদ্য ও স্বাস্থ্য ত্রাণ নিয়ে কভিড-১৯ মোকাবেলা করেছে। তিনি একটির উদাহরণ দিয়েছেন ‘কেনাটিকাট ফুড ব্যাংক মহামারীর আগে মোট ১ লাখ মানুষকে সাহায্য করেছে। মার্চ থেকে খাবারহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই। ভিন্ন ভিন্ন সমাজের মানুষগুলোকে সাহায্য করতে তারা আমাদের জরুরি তহবিল পেল। যে সপ্তাহে অনুদান পেল, তখন থেকে সপ্তাহের বণ্টন ২০ ভাগ বাড়াল।’ তারপর জানলেন, অনেকগুলো খাদ্য ভান্ডার নিজেদের কাজ চালু রাখতে ডানক্যানের ফান্ড ব্যবহার করছে। যখন রাতারাতি সব মুদি দোকান বন্ধ ও লকডাউনে স্বেচ্ছাসেবকদের বাইরে বেরুনো নিষিদ্ধ হয়ে গেল, তখন ডানক্যানকে খাবার কেনা ও জরুরি প্রয়োজনে কর্মী নিয়োগে সংগঠনগুলোকে অনুদান দিতে হলো। তারা ফান্ডের টাকায় কর্মী নিয়োগ দিলেন। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ডের একটি কমিউনিটি সেন্টার (সামাজিক দাতব্য কেন্দ্র) লা কাসা দে আমিসতাদ; আমরা জরুরি অনুদান দিচ্ছি জেনে তারা প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করলেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থা বিবেচনা করে জরুরি কেনাকাটার জন্য চেক ও ১২৮টি পরিবারের জন্য বাক্সে ভর্তি খাবার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছে।

নায়কদের নতুন জীবন

‘হিরো রিচার্জ’ নামের অরেকটি প্রকল্প চালু করেছেন ক্যারি ম্যাকিউ। যেকোনো মহামারী, দুর্যোগে আগে এমন অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় সব পেশার মানুষকে তারা পুরস্কার দেবেন। সবার আগে স্বাস্থ্য পেশাদারদের পুরস্কৃত করা হবে- যারা মহামারীটির বিপক্ষে কাজ করতে করতে প্রচ- মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। হাজার হাজার স্বাস্থ্য পেশাজীবী প্রতিদিন নিজেদের জীবনকে খুব ঝুঁকিতে ফেলছেন কভিড-১৯ রোগীদের বাঁচাতে।  এই প্রকল্পের অধীনে মহামারীর এসব বীরদের পুরস্কার দেওয়া হবে। তাদের এমন কোনো জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হবে যা কোনোদিন ভাবতেও পারেননি তারা। সেখানে পূর্ণ বিশ্রাম পাবেন তারা। এই উদ্যোগে নিউইয়র্ক, বোস্টন, শিকাগো, ডেট্রয়েটসহ সবচেয়ে কঠিনভাবে করোনাভাইরাসের আঘাত হানা শহরগুলোর সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা দেওয়া হবে। এই কার্যক্রমটি এ মাসে শুরু করতে পারবেন বলে তারা আশা করছেন। তার চোখে এই বীরেরা হলেন যারা প্রয়োজনে সাহসী সাহায্য করেছেন। মহামারীর মধ্যেও কাজ করছেন, অন্যের ভালোর জন্য নিজের সবই বিসর্জন দিয়েছেন। নির্ভীকভাবে সামনে থেকে লড়ছেন। স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে মুদিখানার কর্মচারীও ‘হিরো রিচার্জ’ হবেন। যারা জীবনবাজি রেখে কাজ না করলে সারা বিশ্বের পরিস্থিতিই রাতারাতি আরও খারাপ হয়ে যেত। এই মানুষগুলোর মধ্যে তিনি পেয়েছেন আত্মোৎসর্গ। দিনের পর দিন দেখেছেন স্বাস্থ্যকর্মীদের ভেতরে; সামাজিক সংগঠনে, এমন অনেকে আছেন যাদের করার তেমন কিছু না থাকলেও অনড় হয়ে মানুষের পাশে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারের অলাভজনক সংগঠন ‘ড্রিম সেন্টার’র কথা বললেন, যারা তাদের ‘হোপ বক্স’ নিয়ে ১ হাজার পরিবারকে সাহায্য করেছেন। বাক্সে পৌঁছে দিয়েছেন জরুরি খাদ্য, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস, মাস্ক; শিশুদের শিক্ষা, খেলার সামগ্রীসহ নানাকিছু। সংকটে পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় সাহায্য দিয়েছেন সাধ্যমতো। এই সংগঠগুলো খাবারের চেয়েও বেশি বিলিয়েছেন হতাশার মধ্যে ‘আশা’। স্বাস্থ্য পেশাদারদের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় ‘অস্পৃশ্য’ সেবাদানকারীদেরও পুরস্কৃত করবেন তারা। হাসপাতালের দারোয়ান, আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী; ওয়ার্ডবয়রা অন্যদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রতিদিন মেঝেসহ অন্য জায়গাগুলো রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে পরিষ্কার করছেন। রোগীদের যতœ করছেন নানাভাবে। এই সাহসী মানুষগুলো বেতন ও সুযোগ-সুবিধা কম নিয়েই অন্যদের সাহায্য করছেন।

সারা বিশ্বে অনেক মানবিক উদাহরণ তৈরি হচ্ছে। সব বয়সের, সব শ্রেণির মানুষ বিপদে সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে সাহায্য করছেন। আধুনিক বিশ^ মহামারী সংকটের দীর্ঘতম সময় মোকাবিলা করছে আর মানুষের একে অন্যকে অন্তহীন সাহায্য করে চলেছে। আসলে যেকোনো ধরন ও যোগ্যতার মানুষের সত্যিকার নায়ক হওয়ার গুণাবলি আছে। পৃথিবীর বেশিরভাগই তো ভালো মানুষ। অন্যদের সাহায্য করতে চান, দিয়ে আনন্দ পান। তার সাহায্যে কীভাবে উপকার হচ্ছে আগ্রহ নিয়ে দেখেন। তারাও ‘হিরো রিচার্জ’-এর আওতায় আসবে। এ সময়ে মানুষের জন্য ভালোবাসা ও বেদনা নিয়ে ডানক্যানের সব শাখার কর্মী ও ক্রেতারা যেভাবে সহযোগিতা করছেন; তাতে ক্যারি ‘কভিড-১৯’ রোগের পর উন্নততর বিশ্বের স্বপ্ন দেখছেন। ডানক্যানের সদস্যরা হিরো রিচার্জে থাকবেন। এই উদ্যোগে আরও ধন্যবাদ দিয়েছেন অগণিত বিজ্ঞানী, গবেষকসহ নানা পেশাজীবীকে; যারা চারপাশ থেকে নানা রোগের নতুন নতুন চিকিৎসা ও করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করতে চেষ্টা করছেন রাতদিন খেটে। ভাইরাসটিকে দুর্বল ও ধ্বংস করবেন তারা। রোগটির বিপক্ষে যুদ্ধে প্রবল চাপে কাজ করছেন, মানুষকে বাঁচাতে উদ্যোগ নিচ্ছেনসেগুলো ক্যারির মতে, ধন্যবাদের উর্ধ্বে। ক্যারি আরও বলছেন, যেভাবে এখন বিশ্বের মানুষ বেঁচে আছেন, বেশিরভাগই আগে কখনো এমন জীবনযাপন করেননি। প্রতিষ্ঠানগুলোও তাই। ডানক্যানের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড এবং প্রতিষ্ঠানকেও সংকোচন, ব্যয় ও বিক্রির নতুন পদ্ধতি নিয়ে টিকে থাকতে হচ্ছে। করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভেসে যাচ্ছে। তাদের জন্য কাজ করা ফাউন্ডেশনের অলাভজনক অংশীদারদের শ্রদ্ধা জানালেন তিনি। যেভাবে তারা সংকটে নিজেদের অভিযোজিত করেছেন তাতে খুব খুশি হয়েছেন। উদাহরণ দিলেন, ‘কালটিভেইট অ্যাবানডান্স’ খাদ্য নিরাপত্তায় কাজ করে। তারা আমাদের একটি গ্যরান্টি পার্টনার। জরুরি অনুদান পেয়ে এলাকার কৃষকদের খাদ্য চাহিদা পূরণে কাজ করেছে। তাছাড়াও দানের এই টাকায় স্থানীয়দের বারান্দা ও উঠানে পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা পূরণের জন্য অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন। পাঁচ গ্যালনের এক একটি বালতিতে নানা ধরনের সবজির বাগান গড়ে দিয়েছে। বড় ট্রেতে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষের ব্যবস্থা করেছে। তারাও হিরো রিচার্জ।

আশাবাদের পৃথিবী

এই মহামারীতে তাকে সবচেয়ে আতঙ্কিত করেছে মানুষের খাদ্যের অনিরাপত্তা। যেকোনো সময়ের চেয়ে এটি এবার সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। কর্মহীনতার হারও রেকর্ড গড়েছে। পুরো বিশ্ব অর্থনীতিই অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। এগুলো মহামারী মোকাবিলাকে আরও খারাপ দিকে নিয়ে গিয়েছে। বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দেওয়ায় লাখ লাখ অভাবী পরিবারের শিশু বিনামূল্যে ও কমদামে সকালের খাবার এবং দুপুরের খাবার খাওয়ার অধিকার হারিয়েছে। তারা না খেয়ে থাকছে, মারাও যাচ্ছে। এই ছেলেমেয়েদের বাঁচাতে ফুড ব্যাংক বা খাদ্য ভান্ডারগুলো এগিয়ে এসেছে। তাদের দরজায় পড়েছে কর্মহীনের বিরাট লাইন। এই সংগঠনগুলোকে সেই চাহিদা পূরণে রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই কাজ করতে দেখছেন তিনি সবাইকে মহামারীতে। জানেন দুর্যোগের পর একটি কঠিন সময় পার করে মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতার সাক্ষী ও সঙ্গী হবেন। তখন কী ঘটবে? সবাই অজানা আতঙ্কে আছেন। ফলে পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে তাদের। পরের অবস্থায় কীভাবে মানুষকে সাহায্য করবেন এ ভাবনাও ভাবতে হচ্ছে। এ কারণে ও অসংখ্য মানুষের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসের ফলে যারা পাশে থাকছেন, সবার শক্তিমত্তার প্রচন্ড পরীক্ষা নিচ্ছে এই মহামারী, বলেছেন ক্যারি। তারপরও তিনি বিশ্বাস করেন নাগালের বাইরে থাকলেও শুভ দিন সামনেই আছে। বলেছেন, তার দেশের কোম্পানি, দাতব্য সংস্থার পাশাপাশি নাগরিকরাও লাখ লাখ ডলার ত্রাণ সাহায্য দিচ্ছেন। সাহায্যগুলো কেবল আর্থিকই নয়, দেশের সবচেয়ে প্রয়োজনে মানুষের ভেতরের শক্তিকেও জাগিয়ে তুলছে। সবার পাশে সবাইকে নানাভাবে থাকতে দেখে আশা করছেন মহামারীর মাধ্যমে মার্কিনিরা আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তুলবেন। এই মুহূর্তগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সংকটেই নয়, সবসময়ই অসহায়দের পাশে থাকতে, তাদের সঙ্গে একাত্ম হতে শিখবেন। এখন তার দম ফেলারও সময় নেই। তিনি এমন এক মানুষ যিনি সবসময় মানুষের ভালো ব্যবহার ও সহৃদয় আচরণে অন্যদের সাহায্য করা থেকে শেখেন, তেমন হতে উদ্দীপ্ত হন। কর্মঅভিজ্ঞতা ও জীবন থেকে শিখেছেন, কোনো ভালো কাজ ব্যর্থ হয় না। এখন সবার তেমন হওয়া সবচেয়ে প্রয়োজন। নিজেদের মতো করে, আলাদাভাবে সাধারণ মানুষ সাহায্যের জন্য র‌্যালি করছেন। মুদি দোকানদারদের দোকানগুলো খোলা রাখতে, তাদের জন্য ছোট ছোট গার্লস স্কাউটরা মাস্ক বানাচ্ছে। পাশের গরিব ও বিপদে থাকা প্রতিবেশীদের খাবার দিয়ে সাহায্য করছেন ধনী প্রতিবেশী। সারা দিন প্রচন্ড চাপের কাজ করা নার্সদের উজ্জীবিত রাখতে শিশুরা সুন্দর, সুন্দর ছবি এঁকে উপহার দিচ্ছে। ক্যারি জেনেছেন, প্রতিটি মানুষ নিজের মতো করে মানবসেবা করছেন। তাদের সেরাটি বের করে এনেছে মহামারী। তবে ইতিহাসের অন্য সময়ের মতো এবারও দুর্যোগ থেকে ফায়দা লোটার মতো সামান্য কয়েকজন পাষ- দেখেছেন। তারপরও ভালো কাজের দিকেই মনোযোগ তাদের। আশা করেন, কোনোদিনও যেন কোনো মহামারীর মুখোমুখি না হতে হয়। সমাজ ও একে অন্যের জন্য ভালোবাসা এবং পাশে দাঁড়ানোর বিশ্বের এই প্রেরণা কয়েকমাস ধরে মানব জাতিকে পরিচালিত করছে। কোয়ারেন্টাইন, মানবতার অবিশ্বাস্য মুহূর্ত, দরিদ্রদের প্রতি আরও মনোযোগ দেওয়ার বিশ্ব, প্রতিবেশীর আরও উপকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মরণ লড়াই ও ডানক্যান ফ্র্যাঞ্চাইসিস তাকে ও আশপাশের সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে মানবজাতিকে টিকে থাকতে অসাধারণ এ মুহূর্তগুলো সাহায্য করবে। এমন সহমর্মিতাই অচেনা এবং পরিবারের সবার প্রতিই সমভাবে দেখানো হবে আশা করছেন তারা। বিরাট একটি জনগোষ্ঠীকে আর্থিক, মানসিক ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে মার্কিন অর্থনীতি আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে বলে মনে করেন ক্যারি। অলাভজনক সংগঠনগুলোতে অন্যদের মাধ্যমে সমাজসেবা করতে অনেক বেশি স্বেচ্ছাসেবী যুক্ত হবেন। আশা করছেন মানুষের পাশে যারা হৃদয় দিয়ে দাঁড়াতে ভালোবাসেন, সেই তরুণ প্রজন্ম বেড়ে চলা সাহায্য প্রার্থনায় আরও মনোযোগী হবে। মহামারী থেমে গেলে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে  দেখা করার আশা তার। কেননা তিনি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার অবিশ^াস্য কাজটি করেছেন এবং ক্যাথলিক গির্জাগুলোকেও মানবসেবার দিকে মনোযোগী করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত