নারায়ণগঞ্জে ‘গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার’ কিশোরীর (১৫) জীবিত ফিরে আসার ঘটনার আগে তার বাবার করা মামলার নথি ও দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল মামুনকে সশরীরে হাজির হয়ে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুল হাইকে ওই কিশোরীর জবানবন্দিসহ সব নথি দাখিল করতে বলেছে হাইকোর্ট। অন্যদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তলব করেছে সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান ও মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুল হাইকে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় করা কিশোরীর বাবার মামলা এবং মামলা-পরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টে পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে রিভিশন মামলা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। আবেদনের পক্ষে তিনি শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। মামলার নথিপত্রের বরাতে শিশির মনির জানান, গত ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর ৬ আগস্ট তার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা করেন। এরপর পুলিশ আব্দুল্লাহ (২২), রকিব (১৯) ও খলিল (৩৬) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। দুই দফা রিমান্ডের পর নারায়ণগঞ্জের বিচারিক হাকিমের আদালতে তিনজন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। জবানবন্দিতে তারা জানায়, কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট জানা যায়, ওই কিশোরীকে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এরই মধ্যে সে ইকবাল নামে একজনকে বিয়েও করেছে।
আইনজীবী শিশির মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি কোনো ব্যক্তি বিশেষ বা শুধুই একটি মামলার বিষয় নয়। এটি পুরো বিচার প্রক্রিয়ার ব্যাপার। তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিল যে তারা ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ শেষে হত্যা করল। তাদের জবানবন্দি রেকর্ড হলো। কিন্তু ওই কিশোরী ফিরে এলো। ওই সময়ে সে বিয়েও করল। এ ঘটনায় মামলাকেন্দ্রিক একটি অস্বাভাবিক প্রশ্ন উঠেছে। আমাদের বক্তব্য শুনে ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী এসব আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।’
এদিকে আলোচিত ওই কিশোরী বেঁচে থাকলেও তিন আসামি কেন ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে, সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান ও মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবদুল হাইয়ের কাছে তার ব্যাখ্যা চেয়েছে নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। তাদের আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে মামলার এজাহার ও জবানবন্দির নথিপত্রসহ সশরীরে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী সোমবার এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির জামিন ও রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলেও আদেশ দিয়েছে আদালত। আগামী সোমবার চার আসামিকে একসঙ্গে আদালতে উপস্থিত করে রিমান্ড ও জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আসামিরা যদি নতুন করে আবার জবানবন্দি দিতে চায়, সে ব্যবস্থাও করা হবে বলে আদালত জানিয়েছে।
