গান, আবৃত্তি, আলোচনাসহ নানা আয়োজনে পালিত হলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় জামে মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবিকে স্মরণ করা হয়।
সকালে কবির সমাধি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বাংলা একাডেমির আয়োজনে বেলা ১১টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। একক বক্তব্য দেন এ এফ এম হায়াতুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহিদুল ইসলাম এবং নজরুলগীতি পরিবেশন করেন লীনা তাপসী খান।
এ এফ এম হায়াতুল্লাহ বলেন, ‘খন্ডিত পাঠে পূর্ণাঙ্গ নজরুলকে আবিষ্কার করা ও ধারণ করা সম্ভব নয়। এজন্য গভীর অনুসন্ধান এবং অভিনিবেশ প্রয়োজন। নজরুল-জীবন ও সাহিত্যকে যথার্থভাবে মূল্যায়নে আমরা নানান সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হই। নজরুল তার সমকালে যেমন রক্ষণশীল-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন তেমনি সংকীর্ণমনা সাহিত্য সমালোচকেরাও তাকে তার প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করেছেন। তবে নজরুল তার বর্ণাঢ্য জীবন এবং অসাধারণ সৃষ্টির দ্বারা এসব ডিঙ্গিয়ে বাংলা সাহিত্যে ও বাঙালি জীবনে অমরতার আসন নিশ্চিত করেছেন।’
সভাপতির বক্তব্যে শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘নজরুলের বৈরী-পক্ষ তার সমকালেও সক্রিয় ছিল কিন্তু তিনি শৈল্পিকভাবে সেসব প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশ মোকাবেলা করেছেন। সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যের পটভূমিকায় তার বিশিষ্ট স্থান কখনো ম্লান হওয়ার নয়। বাঙালিত্বের উদ্বোধন ও বিকাশে নজরুলের কালজয়ী ভূমিকার কোনো তুলনা নেই।’
অন্যদিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজন করে অনলাইনভিত্তিক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গতকাল বিকেল ৫টায় লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী, কবি নুরুল হুদা, কণ্ঠশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, রেবেকা সুলতানা, সালাউদ্দিন আহমেদ, ইয়াসমীন মুশতারি, সুমন চৌধুরী, যন্ত্রশিল্পী শাহনাজ, কণ্ঠশিল্পী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, ছন্দা চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা গোপ ও ইউসুফ খান। সঞ্চালনা করেন ডালিয়া আহমেদ। এ ছাড়া কুমিল্লায় শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থাপিত চেতনায় নজরুল ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল পরিষদ, নজরুল ইনস্টিটিউট কুমিল্লা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠনও শ্রদ্ধা নিবেদন করে। বিকেলে শিল্পকলা একাডেমি ও নজরুল ইনস্টিটিউটের আয়োজনে অনলাইন মাধ্যমে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
