ফ্রান্সে নতুন ২১ রেড জোন ভারতে রোগী বাড়ছেই

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২০, ০৩:১৬ এএম

ফ্রান্সে ফের মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। দেশটিতে নতুন করে আরও ১৯টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় দেশটিতে ‘রেড জোন’ ঘোষিত এলাকার সংখ্যা দাঁড়াল ২১টিতে। এদিকে ভারতে প্রথমবারের মতো ৭৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৪ ঘণ্টায়। গত বুধবার দেশটিতে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী শনাক্ত হলো। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের দুই বৃহত্তম শহর রাজধানী প্যারিস এবং মার্শেইকে ইতিমধ্যে রেড জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে সরকার। যার অর্থ হচ্ছে এসব এলাকায় ভাইরাসটি এখনো সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এবং প্রতি এক লাখে মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা ৫০ জন ছাড়িয়েছে।

রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করার কারণে কর্র্তৃপক্ষ এখন এসব এলাকায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা ছাড়াও বার ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে। ইতিমধ্যে মার্শেই নগর কর্র্তৃপক্ষ অবশ্য ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে এসব পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়াও বিধিনিষেধ জারি করেছে।

ক্যাস্টেক্স বৃহস্পতিবার নতুন করে আরও কিছু এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমাদের দেশে পুনরায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি লাখে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করে নানা বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে সংক্রমণ রোধে এমন পদক্ষেপ।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে। আমরা আরও বেশি মানুষের নমুনা পরীক্ষা করছি। কিন্তু পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করেই সবকিছুর ব্যাখ্যা করা যাবে না। করোনা পজিটিভ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। মে মাসে লকডাউন প্রত্যাহারের পর পজিটিভের সংখ্যা ছিল ১ শতাংশ, যা এখন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।’

পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার এর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় কিংবা জাতীয়ভাবে ফের লকডাউনের পরিকল্পনাও করে রেখেছে সরকার। কিন্তু তিনি বলেছেন, লকডাউন না করে কীভাবে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ রোধ করা যায় এর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করা হবে।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, দেশটিতে এক দিনে ৭৫ হাজারেরও বেশি কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৭৫ হাজার ৭৬০ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ সময় ৯ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে আর এ অনুযায়ী শনাক্ত রোগীর হার ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় বিশ্বে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ লাখ ১০ হাজার ২৩৪ জনে।  দেশটিতে এখন প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের চেয়েও বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। শনাক্ত রোগীর তালিকায় বিশ্বে ওই দুটি দেশ যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

প্রতিবেশী চীন থেকে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বুধবার ভারতে আরও ১ হাজার ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬০ হাজার ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে এরচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে কেবল দুই আমেরিকা মহাদেশের তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও মেক্সিকোতে।

শনাক্ত রোগী বাড়লেও ভারতে এরই মধ্যে সরকারি হিসাবে আক্রান্তদের তিন-চতুর্থাংশের বেশি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৫ লাখ ২৩ হাজার ৭৭১ রোগী করোনাভাইরাসমুক্ত হয়েছে বলে তাদের দেওয়া হিসাবে দেখা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত