করোনাসংকটে ১ হাজার ৯১৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ ও লে অফ করা হয়েছে। এতে ৩ লাখ ২৪ হাজারের বেশি পোশাকশ্রমিক কর্ম হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। সংস্থাটি বলছে, করোনাসংকটে কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই না করতে সরকার মালিকদের প্রণোদনা দিলেও এর ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রতিদিন কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই চলছে। এমনকি কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানার উদ্যোগ নেননি তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা। বিলসের করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কভিড-১৯ : তৈরি পোশাকশিল্পে শোভন কাজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদস্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী নইমুল আহসান জুয়েল। এতে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৮ নম্বর লক্ষ্য সবার জন্য শোভন কাজ নিশ্চিত করা। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্র উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। দেশীয় কর্মসংস্থানের প্রায় ৬৫ শতাংশ পূরণ করেছে পোশাক খাত। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশ আসে এ খাতের শ্রমিকদের পরিশ্রমে। কিন্তু বছর বছর প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী হলেও পোশাকশ্রমিকদের জীবনমান নিম্নমুখী।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে নানা বিপর্যয়ের মধ্যে বেড়েছে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হার। ৮৭টি কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে সাড়ে ২৬ হাজার। আইন না মেনেই এসব ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। করোনাকালীন সংকটে এই খাতে বেকার হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৮৪ জন শ্রমিক এবং বন্ধ ও লে অফ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯১৫টি কারখানা। এ ছাড়া দিন দিন সারা বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ার কারণে নিশ্চিতভাবে পোশাক খাতেও বাড়বে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার। এতে এ খাতে কর্মরত ৬০ শতাংশ শ্রমিকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিলসের গবেষণাটি মার্চের শেষ থেকে আগস্টের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময়ে ঢাকা ও এর আশপাশের পোশাক কারখানার তথ্য নিয়ে করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা বলেন, গণমাধ্যমে যে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সংবাদ আসে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। যেসব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে, সেসব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করেন তারা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিলসের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল হক আমিন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল-আইবিসির সাধারণ সম্পাদক চায়না রহমান প্রমুখ।
