নব্য জেএমবির ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২০, ০২:২৬ এএম

নব্য জেএমবির এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ। গতকাল শুক্রবার সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম শিব্বির আহমাদ (২২)। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। নব্য জেএমবির বিস্ফোরকদ্রব্য তার কাছে মজুদ রাখা হতো। 

সিটিটিসি কর্মকর্তা জানান, নব্য জেএমবির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর আদর্শিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে শিব্বির আহমাদের কাছে। এ বিষয়ে জানার জন্য আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছে।

তারা আরও জানান, শিব্বির আহমাদের অন্তত ১০টি সাংকেতিক নাম রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ নামগুলো এখন প্রকাশ করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে খোঁজা হচ্ছিল। এরই একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সবুজবাগ থানার পূর্ব বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, পাঁচটি জিহাদি বই ও ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার একটি রসিদ বই উদ্ধার করা হয়।

সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিব্বির আহমাদ নব্য জেএমবির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংগঠনের মিডিয়া উইংয়ে কাজ করেছে। নব্য জেএমবির একসময়ের আমির মুসার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। সিলেটে মুসা মারা যাওয়ার পর সে সংগঠনে কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকে। ২০১৮ সালে সে পুনরায় অনলাইনের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত হয়। অনলাইনে বিভিন্ন আইডি ব্যবহার করে আইএস অনুপ্রাণিত বিদেশি বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করত। সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও আফগানিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশের আইএস অনুপ্রাণিত সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। দেশে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং নাশকতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশের বিভিন্ন নাগরিকের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে। নিজেও কিছু অর্থ খরচ করেছে। আবার সিরিয়াফেরত বিভিন্ন দেশের কিছু বিদেশি নাগরিকের সঙ্গেও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই জঙ্গির কাছে সংগঠনটির বিভিন্ন বিস্ফোরকদ্রব্য জমা রাখা হতো। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানোর কাজও করেছে সে।’

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তার এই জঙ্গি রাজধানীর বাসাবো এলাকার সাইদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৭ সালে দাখিল পাস করে। এরপর বিভিন্ন মসজিদে মুয়াজ্জিন ও সহকারী ইমামের কাজের অন্তরালে উগ্রবাদী ধারণার প্রচার ও জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করত। তার বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত