অনন্তের পাখি রাহাত খান

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ১২:২৪ এএম

মেজর জেনারেল রাহাত খানের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৬৯ সালে ‘সেবা’ থেকে প্রকাশিত পেপারব্যাক এডিশনের মাসুদ রানা সিরিজের সম্ভবত ‘ধ্বংস পাহাড়’ বইয়ের পাতায়। সে বছর ‘রত্নদ্বীপ’, ‘নীল আতঙ্ক-১’, ‘নীল আতঙ্ক-২’ এবং ‘মৃত্যুপ্রহর’ও পড়ি। সঙ্গম শব্দটি যুক্ত থাকার কারণে ‘সাগর সঙ্গম-১ এবং ‘সাগর সঙ্গম-২’ পড়ি রেখে-ঢেকে, টেক্সট বইয়ের মলাটের আড়ালে। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স প্রধান মেজর জেনারেল রাহাত খান মোটেও বন্ধুসুলভ নন, তার সান্নিধ্য উপভোগ্য হওয়ার কথা নয়। এমনকি মাসুদ রানাও তার সঙ্গ তেমন উপভোগ করতেন না। অফিসের বসদের এমনই হওয়ার কথা। মাসুদ রানা কাহিনীর সোহানা, রূপা, গিলটি মিয়া, উ সেন প্রমুখের সঙ্গে আমার কিছুটা ভাববিনিময় হলেও মেজর জেনারেল রাহাত খানের সঙ্গে কখনো টুঁ শব্দটিও বিনিময় হয়নি, তিনি কখনো আমাকে ডাকেননি। তা ছাড়া ক্লাস সেভেনে পড়া, সঙ্গম শব্দ শুনে লজ্জা পাওয়া এঁচড়ে পাকা একটি বালককে তিনি ডাকবেনই বা কেন?

আরও ১০ বছর পর ১৯৭৯-এর মে মাসে সত্যিকারের রাহাত খান সত্যি সত্যি আমাকে ডাকলেন, তিনিই আমার সঙ্গে কথা বলতে চান। ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক আল মুজাহিদী বললেন, রাহাত ভাই তোমাকে দেখা করতে বলেছেন। হাটখোলা ইত্তেফাক ভবনের দোতলার পেছনদিকে হার্ডবোর্ডে ভাগ করা চারটির একটিতে বসেন সুহৃদ, একটিতে লুব্ধক, একটিতে সন্ধানী, অন্যটিতে মনে নেই। সুহৃদের সাপ্তাহিক কলামটির নাম চতুরঙ্গ। এই সুহৃদ হচ্ছেন রাহাত খান। পঁচাত্তরের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ইত্তেফাকে আমার লেখা ছাপা হচ্ছে। এই ভবনে আরও দুটি পত্রিকা ‘সিনেমা’ ও ‘নিউ নেশন’-এও নাম লিখিয়েছি। এই ভবনের বিশিষ্টজনদের আমি চিনি, রাহাত খানকে তো অবশ্যই, অন্য কলাম লেখকদের চেয়ে আমার কাছে তার মর্যাদা অনেক বেশি ওপরে। কারণ তিনি কথাসাহিত্যিক। যে বয়সে আমার শিশুসাহিত্য পাঠই কাম্য ছিল, আমি তা প্রত্যাখ্যান করে বড় পাঠকের দলে নাম লিখিয়েছি। খাবারের দোকানে উর্দু কিংবা হিন্দি গান বাজছে, গানের কলির একটি অংশ ‘হোগা হোতা হ্যায়’ রাহাত খানের গল্পের কিশোররা ওই ‘হোগা’ শব্দটি শুনে খিলখিল করে হেসে উঠছে। আমি বুঝে গেছি এই লেখককে আমার পড়তেই হবে, কারণ তিনি ‘ইন্টারেস্টিং’। কিন্তু যখন রাহাত খানের গল্প ‘ঈমান আলীর মৃত্যু’ পড়ি একবারও মনে হয়নি ‘ইন্টারেস্টিং’-এ পড়ছি; পড়ছি কারণ গল্পটি সিরিয়াস। যারা লেখক হিসেবে নামধাম করেন, তাদের এমন দু-একটা গল্প থাকতে হয় এটা সেই গল্প। তুরুপের তাস। তার এক গল্পের চরিত্র ‘শূন্য আকাশে উড়ান দেবার পারে’ বলতে পারে ‘এই যে আসমানের চান্দ খায়া ফেলাইলাম। আমার হাতের মুষ্টির ভিতর চন্দ্র সুন্দরী ছটফট করতাছে।’ (বেচারা গুফুর বাদশা)

ইত্তেফাকের উল্টোদিকে দেশবন্ধু সুইটমিটের লেখকবাবন্ধব ভাজি-পরোটা খেয়ে ৩টার দিকে যখন তার রুমে উঁকি দিই, আমি যে এমনিতেই আসিনি, আপনি ডেকেছেন তাই এসেছি সেটা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করি। তিনি বললেন, জহুর ভাই তোমাকে দেখা করতে বলেছেন। জহুর ভাই আবার কে? কিন্তু জিজ্ঞেস করে আমার অজ্ঞতা প্রমাণ করিনি। তিনিই বললেন, গতদিনের ‘দরবার-ই-জহুর’ পড়েছো? আমার নীরবতায় তিনি ধরে নিয়েছেন পড়িনি। বসতে বলে বেল টিপলেন, একজন পিয়নকে সংবাদের ফাইল আনতে বললেন। আমি বুঝতে পেরেছি, তিনি যার কথা বলছেন তার নাম জহুর হোসেন চৌধুরী। ডান হাতের তালুতে গাল আর মাথার একাংশ ঠেস দেওয়া একটি ছবি তো প্রতি সপ্তাহেই ছাপা হয়, কিন্তু তার লেখা কখনো পড়েছি বলে মনে পড়ে না। সাহিত্য পাতা থাকে বলে কেবল বৃহস্পতিবারের পত্রিকাটিই কিনি। রাহাত খান পাতাটা বের করে বললেন, পড়ো।

আমি বিস্মিত হয়ে দেখি লেখার ভেতরে আমার নাম। রাহাত খানের নামও আছে। আগের সপ্তাহে ইত্তেফাক ‘মুন্ডু মুন্ডু খেলা’ নামে আমার একটি গল্প ছেপেছে, সেই গল্প আর বাংলাদেশের মাথা কাটার রাজনীতি নিয়ে তিনি তার কলামটি লিখেছেন। হয়তো এমন উদ্ভট একটি নামের কারণেই তিনি গল্পটি পড়েছেন এবং রাহাত ভাইকে লেখকের কথা জিজ্ঞেস করেছেন। বয়স কত হবে তাও জানতে চেয়েছেন। রাহাত ভাই তাকে বলেছেন, উনিশ-কুড়ি হবে আর কী! তার লেখাতেই এই বর্ণনাগুলো আছে। রাহাত ভাই যা বললেন তাতে এটুকু জানা হলো, আমার জন্মেরও আগে তিনিই ছিলেন দৈনিক সংবাদের সম্পাদক। মাস ছয়েক পর রাহাত ভাই ইত্তেফাকের করিডরেই জিজ্ঞেস করলেন, দেখা করতে গিয়েছিলে? আমি আমতা আমতা করি। আমার আর দেখা করা হয়নি, পরের বছরের ডিসেম্বরে তিনি প্রয়াত হন।

২০১০ সালের একদিন টেলিভিশনের প্রযোজক ম. হামিদের বাসা ভেবে রাহাত খান ইস্কাটনে আমার বাসায় কড়া নাড়েন আজকাল কড়া মিলবে কোথায়, বেল টিপলেন। দরজা খুলে আমি থ। তিনিও জানতেন না আমি তখন তার বাসার এত কাছে থাকি। রাহাত ভাই বললেন, একজনকে পেলেই হলো। রাহাত ভাইকে বসিয়ে ম. হামিদকে ডাকতে গেলাম, তিনি আগেই বাসা থেকে বেরিয়ে গেছেন। ঘণ্টা দেড়েক তার সঙ্গে এ কথা, সে কথা। আমি তার ‘অমল ধবল-চাকরি’ উপন্যাসের আলোচনা লিখেছিলাম। বললেন, ‘হে অনন্তের পাখি’ যখন ধারাবাহিক প্রকাশিত হচ্ছিল আগের সপ্তাহে কী লিখেছেন মনে করতে সমস্যা হচ্ছিল। এজন্য উপন্যাস টানা লিখে যাওয়া ভালো।

রাহাত ভাই আর একদিন এলেন, এবার ভুল করে নয়, জেনেশুনেই। আমাদের শিক্ষা বাজেটের কত অংশ মাদ্রাসা শিক্ষার পেছনে ব্যয় করা হয় এবং কোন সরকারের আমলে কত ভাগ হয়েছে, তিনি তার একটি ধারণা পেতে চান। ততদিনে আমি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কচ্যুত, আর ব্যক্তিগত আগ্রহেও এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় আমার হাতে কোনো তথ্য ছিল না। আমি মুখে মুখে কিছু জবাব দেওয়া ছাড়া তার কোনো কাজে লাগিনি। কিন্তু কদিন পরে। তার লেখাতেই পাই ‘মাদ্রাসায় কারা পড়ে? এরা তো আমাদেরই সন্তান। তাদের ওপর আমাদের সহানুভূতি আছে! এরা কেউ বাধ্য হয়ে মাদ্রাসায় যায়। .... একটা স্তর পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম একই থাকা উচিত। একেক মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা একেক রকম শিখছে। মাদ্রাসায় শেখানো হচ্ছে বাংলা ভাষা কোনো ভাষা নয়, আরবি হলো আল্লাহর দেওয়া ভাষা। আরে আল্লাহর দেওয়া ভাষা তো সব ভাষাই। আল্লাহ তো সব ধর্মের সব বর্ণের, সব ভাষার মানুষ সৃষ্টি করেছেন।’

তার ভাষ্য যেখানে ইসলাম অসাম্প্রদায়িকতা প্রচার করে, সেখানে এই ধর্মাবলম্বী মানুষ সাম্প্রদায়িক হয় কেমন করে? ‘মুক্তবুদ্ধির ওপর ধর্মান্ধদের হামলা, সিরিয়ায় অসহায় শিশুদের নির্মম মৃত্যু.... মানবতার অপমানের থেকে হাস্যকর বিদ্রুপাত্মক ঘটনা আর কী হতে পারে?’ শিক্ষাব্যবস্থার ধারা মাত্র চারটি নয় (মাদ্রাসা শিক্ষা, বাংলা মাধ্যম টেক্সট বুক বোর্ড, ইংলিশ ভার্সন টেক্সট বুক বোর্ড এবং ইংলিশ মিডিয়াম) স্কুলটি কোথাকার শহরের না গ্রামের? শিক্ষার্থীর পরিবার কি ধনী? মধ্যবিত্ত? মধ্যবিত্ত হলে কেমন মধ্যবিত্ত? নিম্নবিত্ত? স্কুল কি সরকারি না বেসরকারি? স্কুল কি এমপিওভুক্ত, না এমপিওবিহীন; হরেক বিভাজন ইংলিশ মিডিয়ামে এবং মাদ্রাসাতেও। এমনিতেই বিত্তের বিবিধ মালিকানা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে শিক্ষা সেই বিভেদকে আরও তীব্র করে তোলে এবং বিভক্তিও বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাহলে রাষ্ট্র এই বিভাজন ও বৈষম্যের হোতা কেন হতে যাবে? রাহাত খান শুরুতে অর্থনীতির ছাত্র ছিলেন বৈষম্য তাকে নাড়া দেবে এটাই স্বাভাবিক। বৈষম্যবিমোচনে তিনি সংগত কারণে একটা পর্যায়ে এসে একই শিক্ষাকার্যক্রম চেয়েছেন।

রাহাত খান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও মানসিকভাবে এতটুকুও ভেঙে পড়েননি। বছর পাঁচেক আগে লিখেছেন : ‘অনেক সময় আমরা দেখি, একটা মানুষ সময়ের জীবনের এবং যৌবনের এত অপচয় করে সেটা যেন মোমবাতির দুদিকে জ¦ালিয়ে রাখলে মোমবাতি যেমন দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যায়, এই মানুষটির জীবনের পরিণতিও একই রকম দাঁড়ায়। আমি এমন লোকও দেখেছি যারা যৌবন বয়সেই প্রৌঢ়ত্বের দেখা পায়। যৌবন থাকতেই তারা যৌবন হারিয়ে ফেলে। এই মানুষগুলো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করতে পারে না। এরা কিন্তু দৈহিক বা মানসিকভাবে পঙ্গু কিংবা বিকলও না। এরা দেখতে বাইরে দৃশ্যমান হচ্ছে সুস্থ লোক কিন্তু ভেতরে সে অসুস্থ।’ (কে তুমি মনের ভেতর, কালের খেয়া, ৪ ডিসেম্বর ২০১৫)।

সমাজের ভেতর কাঠামো খেয়ে ফেলেছে এসব অসুস্থ ও নির্বীর্য মানুষ। রাহাত খান চান আগামী প্রজন্ম মিথ্যে স্বপ্ন ও আশ্বাসের মধ্য দিয়ে নয়, জীবনের মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাক আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ২০১১ সালের বাছাই করা ঈদসংখ্যাগুলোতে রাহাত খানের তিনটি উপন্যাস ছাপা হয়েছে। তখনকার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বেশ জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমি চাইলেই লিখতে পারি’ চাইলেই লিখতে পারার শক্তি এবং জোরালো কণ্ঠে তা বলতে পারা সত্তর পেরোনো লেখকদের মধ্যে রাহাত খান ছাড়া আর কাউকে বলতে শুনিনি। এ বয়সের লেখকের কণ্ঠে আমি শুনেছি : রাইটার্স ক্র্যাম্প লেখা আসছে না, কী হবে লেখালেখি করে কিংবা সুগারটাই সামাল দিতে পারছি না মুড খুব ফ্ল্যাকচুয়েট করছে।

আরও প্রায় এক দশক পর, বিশ্বব্যাধি করোনাভাইরাস সংক্রমণ আশঙ্কায় গৃহবন্দি হওয়ার মাস-তিনেক আগে সদ্য আশি পেরোনো রাহাত খান সমকালকে এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, বয়স বেড়ে যাওয়ার বাস্তবতাকে যে কখনো কখনো প্রতিবন্ধকতা মনে হয় না, এমন নয়! ‘এটা তো সত্য যে, আমার বয়স হয়েছে। আরও কতগুলো পরিবর্তন তো হয়েছে। যেমন আগের মতো লিখতে পারি না। লেখার ইচ্ছা আছে, অনেক থিম আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। কিন্তু লিখতে বসব, খাতা খোলা, পাশে তিন-চারটা কলম বসতে পারি না। কেউ তো নিষেধ করেনি। তবু পারি না। এটাই বয়সের বাধা।

যে কথাটি বলা হয়নি ওই যে মেজর জেনারেল রাহাত খান এই নামটি তিনি কোথায় পেলেন? কাজী আনোয়ার হোসেন কথাশিল্পী রাহাত খানের নামটিই জেনারেল সাহেবের ওপর চাপিয়েছেন। এটা তিনি স্বীকার করেছেন। রাহাত খানও জানতেন।

চিরদিন বহন করে বেড়ানো এক দুঃখের কথা বলেছেন রাহাত খান, আহমাদ শামীমের অনুলিখনে সেই বেদনা পাঠককে স্পর্শ না করে পারে না। ষাটের দশকের শুরুতে তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তার মা মৃত্যুশয্যায়। ‘আমাকে কেউ জানায়নি এ খবর। পরে জেনেছি তিনি নাকি বিছানা থেকে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। মাকে বলা হলো তুমি যার জন্য তাকিয়ে আছো সে তো ফিরবে না। তুমি যদি বলো আমরা তাকে আসতে বলি। তিনি বললেন, না, ছেলেটার পরীক্ষা। আমাকে দেখতে এসে কী হবে? বড়জোর মরে যাব আমি। শুধু শুধু একটা বছর নষ্ট হবে ওর। অসুস্থায় ভুগে আমার পথের পানে চেয়ে আমার মা মারা গেলেন। অথচ আমি জানতেই পারলাম না। দুই মাস পর আমি তার মৃত্যুর খবর পেলাম। কারও সাহস হয়নি আমাকে এ খবর জানানোর। পরীক্ষা শেষে আমি ময়মনসিংহ শহরে চলে এলাম যথারীতি। সেখানে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা দিই, সিনেমা দেখি, এদিক-ওদিক যাই। একরকম ঘোরের মধ্যেই কাটতে থাকে সময়। আমার বড়বোনের বাসায় থাকতাম তখন। তিনিও সাহস পাননি মায়ের কথা আমার কাছে বলতে। শুধু এক দিন আমাকে বললেন, আচ্ছা এর মধ্যে মাকে কোনো দিন স্বপ্নে দেখেছিস? আমি বললাম, হ্যাঁ, মাকে এক দিন স্বপ্নে দেখেছি। পরে মিলিয়ে দেখলাম মা যেদিন রাতে মারা যান, সেদিন রাতেই আমি তাকে স্বপ্নে দেখেছি। তারিখটা ছিল ২০ জুন। এটা আমার চিরদিন বহন করে বেড়ানো দুঃখ!’

রাহাত খানের অবিচুয়ারি পড়ে একদা ময়মনসিংহে রাহাত খানের প্রতিবেশী প্রকৌশলী রুমী ভাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেছেন, তার বেদনার ভারী বাতাস আমাকেও ছুঁয়েছে। তিনি রাহাত খানের ‘দিলুর গল্প’ পড়ে দিলুর সঙ্গে বেড়ে উঠেছেন।

রাহাত খানের ‘চুপি চুপি বাঁশি বাজে’ গল্পটি মনে করুন। ‘মিলি শাড়ি, অলঙ্কার পরেটরে একদম তৈরি। বিছানায় চোখ বুঝে শুয়ে থাকা স্বামীর উদ্দেশে সে বলে, জিন্দা না মওতা? চোখ না খুলে ঘুম জড়ানো গলায় আয়াজ বলে, মওতাই বলতে পার। সেভেনটি ফাইভ পার্সেন্ট।’

আমিও তো তাই জিজ্ঞেস করি, রাহাত ভাই, আপনি জিন্দা না মওতা?

লেখক : কথাসাহিত্যিক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত