আমূল পরিবর্তন নয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চান বাংলাদেশ দলের নতুন ব্যাটিং পরামর্শক ক্রেইগ ম্যাকমিলান। এজন্য সেপ্টেম্বরেই জাতীয় দলের অনুশীলন শুরুর আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন তিনি।
করোনা পরিস্থিতিতে পরিবারকে ছেড়ে আসবেন না বলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার নিল ম্যাকেঞ্জি। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ম্যাকমিলান। ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কেন উইলিয়ামসনদের ব্যাটিং কোচ হিসেবে সফল ৫ বছর কাটিয়েছেন সাবেক এই তারকা ব্যাটসম্যান। এবার তার সামনে চ্যালেঞ্জটা বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে। মুমিনুল-মুশফিক-তামিমদের টেস্টের মেজাজ আরও শানিয়ে দিতে কাজ করবেন ম্যাকমিলান। এই লক্ষ্যে ক্রিকেটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করে দিতে চান তিনি। ‘প্রথম কাজটি হবে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা। নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজে আমি ওদের (বাংলাদেশের) কিছু ক্রিকেটারকে চিনেছি। কিন্তু ভালোভাবে না। এই জায়গাটায় পরিবর্তন করতে চাই। আমি অবশ্যই আমূল টেকনিকের বদল নিয়ে কাজ করব না। এটা কাজেও আসবে না। তার চেয়ে ক্রিকেটারদের পরিকল্পনায় নতুন কিছু যুক্ত করা, সাফল্য পাওয়ার জন্য সঠিক পথটা বলে দেওয়াই বেশি কাজে দেবে। টেস্টে সফল হতে হলে আপনাকে আগে সফল রক্ষণ শিখতে হবে। এরপর লম্বা সময়ের জন্য সাফল্য পাওয়ার অন্য ধাপগুলো। এটা করতে পারলে আপনি যে কোনো বোলারের বিপক্ষে সঠিক সময়ে সঠিক শট খেলতে পারবেন। আমি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এ ব্যাপারটা উপলব্ধি করাতে চাই।’
সেপ্টেম্বরের শেষদিকে কলম্বোয় তিন সপ্তাহে অনুশীলন ক্যাম্প করবে বাংলাদেশ। ম্যাকমিলানও এই ক্যাম্পে থাকবেন। করোনার পর ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরার জন্য এই অনুশীলন ব্যবস্থাকে উপযুক্ত মাধ্যম বলে জানালেন তিনি। এছাড়া তিন টেস্টের সিরিজও তার কাছে ক্রিকেট মাঠে ফেরার দারুণ উপলক্ষ। ম্যাকমিলান বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই ক্রিকেটের জন্য কঠিন সময় যাচ্ছে। তাই একটা সিরিজ সামনে আসা মানে দারুণ উপলক্ষ। বাংলাদেশ দলের জন্যও তিন টেস্টের সিরিজটা দারুণ সুযোগ। এছাড়া বিসিবি প্রথম টেস্টের আগে তিন সপ্তাহের একটা অনুশীলন ক্যাম্পের ব্যবস্থা করে খুব ভালো করেছে। এতে ক্রিকেটাররা দারুণ একটা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে পারবে।’
আপাতত শ্রীলঙ্কা সফরের জন্যই চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ম্যাকমিলান। এরপর কী হবে তা এখনো বলতে পারছেন না। তবে আলোচনার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ ঠিক হবে বললেন তিনি, ‘আমাকে রাসেল ডমিঙ্গো ফোন করে দায়িত্বটা নেওয়ার ব্যাপারে জানায়। এটা আমার জন্য চমক ছিল। এক সপ্তাহ সময় নিয়ে ভেবে আমি রাজি হই। ভাবলাম এখন খেলা নেই, এই সময়ে একটা সুযোগ আসলে তা লুফে নিতেই হয়। আপাতত আমি শ্রীলঙ্কা সফরের পরবর্তী কিছু নিয়ে ভাবছি না। আগে সফর শেষ হোক। এরপর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভাবা যাবে।’
