পাসপোর্ট তৈরি ও বিতরণ কার্যক্রমের পরিধি বাড়ছে

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ০২:৩৯ এএম

পাসপোর্ট তৈরি ও বিতরণের বিড়ম্বনার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ই-পাসপোর্টসহ সব ধরনের পাসপোর্টের সেবার পরিধি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এতে সাধারণ মানুষের নতুন ই-পাসপোর্ট পেতেও ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন থেকেই খুব সীমিত আকারে নতুন পাসপোর্ট পেয়ে আসছিলেন আবেদনকারীরা। নতুন পাসপোর্টের জন্য দুই লাখেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে আছে ঢাকাসহ পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে। এসব আবেদনকারীর সেবার পরিধি বাড়াতে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। তবে ই-পাসপোর্ট তৈরিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশি মনোযোগী হতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত ২৩ মার্চ থেকে নতুন পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও বিতরণের সব ধরনের কাজ বন্ধ করে দেয় কর্র্তৃপক্ষ। পরে ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে অফিস কার্যক্রম চালুর পর শুধু রি-ইস্যু পাসপোর্ট বিতরণ শুরু করা হয়, যা এখন চলছে। করোনার কারণে পাসপোর্ট সেবা বন্ধ হওয়ার আগে গত ২২ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম। তখন ঢাকাসহ ৯টি পাসপোর্ট অফিসের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট সেবা দেওয়া শুরু করে কর্র্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে আরও ২৫টি পাসপোর্ট অফিসের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়, যা আবার চালু করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে নতুন ও রি-ইস্যু পাসপোর্টের নিবন্ধন কার্যক্রম সীমিত পরিসরে (মোট সক্ষমতার ৪০ শতাংশ সেবা) চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে এই সেবার পরিধি বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। আবেদনকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যে যাদের ছবি ও হাতের ছাপ নেওয়ার জন্য অ্যাপয়েনমেন্ট দেওয়া হয়েছে, তারা ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অনলাইনে অ্যাপয়েনমেন্ট নিতে পারবেন। এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন ও পুরনো আবেদনকারীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে অবশিষ্ট ২৫টি রিজিয়নাল পাসপোর্ট অফিসে (আরপিও) ধাপে ধাপে (প্রতি সপ্তাহে পাঁচটি করে) ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা হবে। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম দফায় গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নোয়াখালী ও ফেনীতে ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম শুরু হবে। দ্বিতীয় দফায় মুন্সীগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে চালু করা হবে। তৃতীয় দফায় যশোর, খুলনা, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালু করা হবে। চতুর্থ দফায় চট্টগ্রামের চাদগাঁও, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও রংপুরে এবং পঞ্চম দফায় দিনাজপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, বরিশাল ও পটুয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জানা গেছে, ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা। আর ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা। নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরিতে ৩ দিনে, জরুরিতে ৭ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। এ ছাড়া আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ পাসপোর্টর ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। আর ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই সংশ্লিষ্ট তথ্য হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন পাসপোর্টের আবেদন জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মীদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। কারণ, আবেদনকারীকে পাশে নিয়ে আঙুলের ছাপ নিতে হয় এবং ছবি তুলতে হয়। এটা করতে গিয়ে দায়িত্বরত যেকেউ করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। সে জন্যই এতদিন এটা বন্ধ ছিল। তবে এখন সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এটা করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে পাসপোর্টের কার্যক্রম সীমিত আকারে করা হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ই-পাসপোর্ট সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাসপোর্টের অন্যান্য কার্যক্রম আগের মতোই থাকবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে আগত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি থেকে ছবি তোলাসহ নানা কাজ করতে হয় সংশ্লিষ্টদের। এতে করে করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। সার্বিক দিক চিন্তা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সবাইকে সতর্কভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত