বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল আশরাফ জিন্নাহকে প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে মারধর করেছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। গতকাল শনিবার দুপুরে কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ডে তাকে মারধর করেন ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী। এ ঘটনায় জুলফিকার আলীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুরে কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ডে একটি চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ। এ সময় ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী সেখানে হাজির হন। তিনি চায়ের দোকানে উপজেলা চেয়ারম্যানকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। চেয়ারম্যান তাকে গালি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জুলফিকার হঠাৎই তার ওপরে চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে উপজেলা পরিষদে পাঠিয়ে দেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা জুলফিকার কুন্দারহাট বাজারে তার অনুসারীদের ডেকে নেন। সেখানে জুলফিকারের নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন, এমন অভিযোগ এনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তার অপসারণ দাবি করা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা জুলফিকার আলীর দাবি, কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করতে যাওয়া নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বিরূপ মন্তব্য করায় তাকে পিটিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলেও দাবি করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।
নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কুন্দারহাট বাজারে শত শত মানুষের সামনে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমি পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
আওয়ামী লীগ নেতা জুলফিকারের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি নিজে নৌকা মার্কা নিয়ে উপজেলা নির্বাচন করেছি। এ ছাড়া পারিবারিকভাবেই আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনা শোনার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
