গণপরিবহনে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ০৩:০৯ এএম

অবশেষে গণপরিবহন থেকে প্রত্যাহার হচ্ছে ৬০ শতাংশ বর্ধিতভাড়া। ফলে সব পরিবহন সব আসনে যাত্রী তোলার সুযোগ পাবে। তবে করোনা সংকটের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার যেসব শর্তে গণপরিবহন চালু করতে দেওয়া হয়েছিল সেগুলো অব্যাহত থাকছে। গতকাল শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় ফিরছে গণপরিবহন। এক্ষেত্রে আসনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। যাত্রী-চালকসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে। গাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ঢাকা জোনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

গেল ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর টানা দু’মাস ধরে বন্ধ থাকে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল। তবে জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন এর আওতামুক্ত ছিল। গত ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধির ১১টি শর্ত কড়াকড়ি পালনের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। তার মধ্যে অন্যতম ছিল অর্ধেক আসন খালি রাখা। এরপর পরিবহন মালিকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ৬০ শতাংশ বর্ধিতভাড়া আরোপ করা হয়।

শুরুতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের বিষয়টি ভালোভাবে চললেও কোরবানির ঈদ থেকে এটি ভেঙে পড়ে। ঈদযাত্রায় অধিকাংশ পরিবহন নিয়ম না মেনে অধিক যাত্রী পরিবহন করে। একইসঙ্গে ৬০ শতাংশ বর্ধিতভাড়াও আদায় করা হয়। ঈদের পরে একই অবস্থা চলতে থাকলে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত যাত্রী তুলে বর্ধিতভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে যাত্রী-শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতির খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ পরিস্থিতিতে গণপরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

এরইমধ্যে গত ২৬ আগস্ট বিআরটিএর সঙ্গে এক বৈঠকে গণপরিবহন আগের নিয়মে চালানোর অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান বাস মালিকরা। একই দিন বিআরটিএর উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘৩১ আগস্টের পর আগের নিয়মে বাস চলার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন মালিকরা। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। এরপর মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ গতকাল তিনি বলেন, ‘মালিকদের দাবি ও যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বর্ধিতভাড়া প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

গতকালকের বৈঠকে ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে সরকার আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে গণপরিবহন আগের নির্ধারিত বাড়ায় ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত সংশ্লিষ্টদের প্রতিপালন করতে হবে। সেগুলো হলো গণপরিবহনের যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার, চালকের সহকারী, টিকিট বিক্রয়কারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। হাত ধোয়ার জন্য পর্যাপ্ত সাবান পানি অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। আসন সংখ্যার অতিরিক্ত কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না। অর্থাৎ যত আসন তত যাত্রী পরিবহন নীতি কার্যকর হবে। দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালাতে হবে। ট্রিপের শুরু এবং শেষে যানবাহন জীবাণুমুক্ত করতে হবে।’ সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এ সময় নিয়ম মেনে এবং শর্ত মেনে পরিবহন চালানোর জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি যাত্রীসাধারণকেও মাস্ক পরিধানসহ নিজের সুরক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিজ্ঞপ্তি আকারে জানানোর পাশাপাশি আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যক্রম জোরদার করতে বিআরটিএকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে তিনি হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়টি কঠোরভাবে প্রতিপালনের অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। সিটের অতিরিক্ত যাত্রী না তোলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা অবশ্যই থাকতে হবে। আগের নিয়মে যাতে ভাড়া নেওয়া হয় সেজন্য আমরা দু-একদিনের মধ্যে সার্কুলার জারি করব। আশা করি, এর মাধ্যমে যাত্রী অসন্তোষের সমাপ্তি ঘটবে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত