রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন আইন-২০২০ নিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নিজেদের মতামত নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিলেও উভয় দলেরই নতুন এই আইন নিয়ে বেশ কিছু আপত্তি রয়েছে। এ আইন নিয়ে ইসিতে নিবন্ধিত ১৭টি রাজনৈতিক দল মতামত জানায়নি। এ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর রয়েছে ঘোরতর আপত্তি। নতুন এ আইনটি নিয়ে কেন মতামত জানায়নি জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তারা বলে, ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০’ সংশোধন করার সুযোগ নিয়ে প্রকৃতপক্ষে ইসি অগণতান্ত্রিক নিয়ম চালুর রাস্তা বের করতে চায়।
ইসি ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০’-এর খসড়ার ওপর মতামত চায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। প্রস্তাবিত ওই আইনে কীভাবে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পাবে, কীভাবে নিবন্ধন বাতিল হবে ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। এর ওপর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কাছেও চাওয়া হয়েছে মতামত।
প্রস্তাবিত আইন নিয়ে বিরোধিতা থাকলেও ইসি কর্মকর্তারা জানান, ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০’-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে ইসি। আগামী সপ্তাহে নতুন খসড়া এই আইন চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মনে করছি নির্বাচন কমিশন তাদের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০’ করছে। তাই মতামত প্রদান করিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-১৯৭২ (আরপিও) বাংলায় করার প্রয়োজনীয়তা কী? ইংরেজিত থাকলেই বা কি অসুবিধার সৃষ্টি করেছে এগুলো জানতে হবে।’
কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘বাংলা করার নামে নানান জিনিস সন্নিবেশিত করবে। সন্দেহ হচ্ছে যে বাংলা করার মধ্য দিয়ে সুযোগ নিয়ে ইসি চায় বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক নিয়ম ঢোকানোর পদ্ধতি বের করতে।’ এই আইন নিয়ে তিনি বলেন, ‘চক্রান্তের অংশ হিসেবেই কমিশন এই উদ্যোগ নিয়েছে।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘মতামত দেওয়ার সুযোগ পায়নি তার দল। তবে এই আইন যখন সংসদে আসবে তখন মতামত প্রদান করবে জাপা।’
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘করোনার কারণে মতামত প্রদান করতে পারিনি। দলের সবাইকে নিয়ে মিটিং-সিটিং করতে পারিনি বলে মতামত প্রদান করা সম্ভব হয়নি।’
জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব নির্বাচন কশিনের এই উদ্যোগকে ‘তুঘলকি কাণ্ড’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এদিকে এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইসিতে সামগ্রিকভাবে একটি মতামত দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) বাংলায় করার বিপক্ষে দলটির অবস্থান বলে জানা গেছে।
মতামতে বিএনপি বলছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ‘রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন-২০২০’ করা ষড়যন্ত্রের অংশ। মতামতে এই সময়ে নতুন নিবন্ধন আইনকে অপ্রয়োজনীয়ও দাবি করেছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনকে এই ধরনের উদ্যোগ থেকে সরে আসারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
