বিশ্বের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংকারী বন্দরগুলোর মধ্যে ৫৮তম স্থানে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এক বছর আগে বন্দরটির অবস্থান ছিল ৬৪তম।
লন্ডনভিত্তিক শিপিং বিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম লয়েডস লিস্ট ২০১৯ সালের কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে সম্প্রতি বিশ্বের ১০০ শীর্ষ কন্টেইনার পোর্টের এ তালিকা প্রকাশ করে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ।
২০১৮ সালে ২৯ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে শীর্ষ একশ বন্দরের মধ্যে ৬৪তম স্থানে নাম উঠেছিল চট্টগ্রাম বন্দরের।
এক বছরের ব্যবধানে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৮৭ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে লয়েডস লিস্টের তালিকায় এগিয়ে যায় আরও ছয় ধাপ।
এ অর্জনকে সরকারের সুদৃষ্টি, ব্যবসায়ী মহলের সহযোগিতা ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটেছে বন্দরের এ সফলতায়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সক্ষমতার নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা বসে থাকিনি। সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সময়োপযোগী পলিসি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। আগামীতে বন্দরকে আরও সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বে টার্মিনাল, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালসহ চলমান প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করা গেলে আশা করি আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবো।
লয়েডস লিস্টের প্রকাশিত তালিকায় এবারও শীর্ষস্থানে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। ২০১৮ সালে বন্দরটি ৪ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছিল।
২০১৯ সালে সাংহাই বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৩হাজার টিইইউস। এক বছরে তাদের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৩দশমিক ১ শতাংশ।
সিঙ্গাপুর বন্দর রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। ২০১৯ সালে ৩ কোটি ৭১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৩৬ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে বন্দরটি। ২০১৮ সালে সেখানে হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টিইইউস কন্টেইনার। এক বছরে বন্দরটির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১দশমিক ৬ শতাংশ।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে চীনের সমুদ্র বন্দর নিংপো চৌ শান। আগের বছরের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করে এ বন্দর। ২০১৮ সালে বন্দরটির কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫১ হাজার
তালিকায় চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের শেনজেন ও গুয়ানজো বন্দর। ৬ষ্ঠ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বুশান বন্দর। সপ্তম, অষ্টম ও নবম স্থানেও রয়েছে চীনের তিন বন্দর কিংডাও, হংকং ও তিয়ানজিন। দশম স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ডের বোটেরডাম বন্দর।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং ১২তম স্থানে, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর ২৪ তম, ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি ২৫তম, ভারতের জওহরলাল নেহেরু বন্দর ৩৩তম ও পাকিস্তানের করাচি বন্দর ৮০তম স্থানে রয়েছে। শততম স্থানে রয়েছে তাইওয়ানের তাইপে বন্দর। ২০১৮ সালে বন্দরটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৯ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করলেও ২০১৯ সালে এসে হ্যান্ডলিং করে ১৬ লাখ ২০ হাজার ৩৯২ টিইইউস।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চট্টগ্রাম বন্দরের এ অগ্রগতি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রতিফলন উল্লেখ করে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০২১ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা, ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোতে ট্রান্সশিপমেন্টসহ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশেষ করে বে টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং স্বল্প মেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে আগামীদিনে বন্দর আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।
