জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক মামুন উর রশিদের জন্মদিন আজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিন জুড়েই সবার শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত এই তারকা। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে দেশের হকিতে যার অবদান অনস্বীকার্য।
দেড় যুগেরও বেশি সময় আগে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করেছেন। তবে হকির সঙ্গেই নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন মামুন। কাজ করছেন কোচ হিসেবে। গড়ে তুলছেন আগামীর তারকা। এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা তারকা মামুনুর রহমান চয়নের পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট হয়ে ওঠাও যেমন তার হাত ধরে।
মামুন উর রশিদের জন্মদিনে চয়ন দেশ রূপান্তরকে শোনালেন সেই গল্প।
নিজের নামের আগে ‘পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট’ তকমা জুড়ে যাওয়ার পুরো কৃতিত্বই চয়ন দিচ্ছেন বিকেএসপির সাবেক কোচ মামুনকে। চয়নের কথায়, ‘এই বিষয়টার পুরো কৃতিত্ব আমার কোচ মামুন স্যারের। স্যারই আমাকে প্রথম পেনাল্টি কর্নার মারা শিখিয়েছেন।’
কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বিকেএসপিতে কাজ করেছেন মামুন। চয়ন সেখানে ভর্তির পরই পেয়েছেন তাকে। বলছিলেন, ‘আমি তখন বিকেএসপিতে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। এক ক্লাসে সোহেল আব্বাসের একটা পেনাল্টি কর্নারের ভিডিও দেখানো হয়। সেটা দেখানোর পর মামুন স্যার বললেন, ‘কে কে মারবা?’ আমি হাত তুলি। তারপর স্যার আমাকে নিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করলেন।’
‘স্যার আমাকে নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। স্যারের কারণেই আজকের চয়ন আমি। ওই পেনাল্টি কর্নারের কারণেই স্যার আমাকে কোনো ধরনের টুর্নামেন্ট বা লিগ, দ্বিতীয় বিভাগ বা তৃতীয় বিভাগ না খেলার আগেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ দলে সুযোগ করে দেন।’
চয়ন খেললেন ২০০৪ পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২১ এশিয়া কাপে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্রথম ম্যাচে গোল করেন। ওই সময় স্পনসরও পেয়ে যান তিনি।
সবই হয়েছে তার ওপর একজন মামুন আস্থা রেখেছিলেন বলে। চয়ন বলছিলেন, ‘সেবার শুধু পেনাল্টি কর্নারের জন্যই আমি সুযোগ পাই। এ নিয়ে কোচকে অনেক কথাও শোনতে হয়েছে। মামুন স্যারও সেই দলের কোচদের একজন ছিলেন। স্যার নিজের ওপর দায়-দায়িত্ব নিয়ে আমাকে দলে নিয়েছিলেন। কিন্তু সমালোচনার আর সুযোগ হয়নি। প্রথম ম্যাচেই আমি চীনের বিপক্ষে গোল করি। এরপরই নতুন খেলোয়াড় হিসেবে সেখানে আমার স্পনসর চলে আসে।’
চয়ন জাতীয় দল থেকে অবসরে গেছেন গত এশিয়ান গেমস খেলে। তবে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোতে নিয়মিত খেলছেন নৌবাহিনীর তারকা। এখনো পর্যন্ত দেশের সেরা পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্টের তকমা তার গায়ে।
