লকডাউনে নেট-নির্ভরতা বেড়েছে, বেড়েছে অনলাইন ওয়ালেট নির্ভর লেনদেনও। সেই সুযোগে মানুষকে ঠকানোর জাল বিস্তার করেছে প্রতারকেরা। এ জন্য তারা কেওয়াইসি (নো ইয়োর কাস্টমার) পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। গ্রাহকের অজান্তেই দূর থেকে প্রতারক চক্র তার মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ সারছে।
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার দক্ষিণ-পশ্চিমের হরিদেবপুরের এক ব্যক্তি এ ভাবেই প্রায় এক লাখ টাকা খুইয়ে পুলিশে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন অনলাইন ওয়ালেটে লেনদেনের জন্য নতুন করে কেওয়াইসি লাগবে বলে ফোন কল বা এসএমএস পাঠানো হচ্ছে ইদানিং। সেখানে একটি মোবাইল নম্বর ও একটি লিঙ্ক থাকছে। অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে ফোন করলে জানানো হচ্ছে, ওয়ালেট পরিষেবা চালু রাখার জন্য নতুন করে কেওয়াইসি তথ্য দিতে হবে এবং তা সম্পূর্ণ অনলাইন নির্ভর। এ জন্য প্লে-স্টোর থেকে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে বলা হয়। তার পরেই নয় সংখ্যার একটি কোড ফোনের ও-পারের ব্যক্তিকে দিতে বলা হচ্ছে। এর পরেই দেখা যায়, অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞেরা বলেছেন, অ্যাপগুলি আসলে রিমোট শেয়ারিং। ওই নয় সংখ্যার কোড অন্য কাউকে দিলে সে দূরে থেকেই অ্যাপ মারফত অন্যের মোবাইল বা কম্পিউটার নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারবে। শুধু তাই নয়, মোবাইলে কী পাসওয়ার্ড দিচ্ছেন, তা-ও জানতে পারবে দূর থেকে ওই প্রতারক। এমনকি মোবাইলে কী কী ব্যাংকের কি কি নথি রয়েছে, তাও জানা সম্ভব। এ ভাবেই নতুন কায়দায় জালিয়াতেরা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্লক করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার পদ্ধতিটি পরিচিত হয়ে ওঠায় এই নতুন পন্থা নিয়েছে জালিয়াতেরা।
বিভিন্ন অনলাইন ওয়ালেট সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, অনলাইনে কখনও কেওয়াইসি নেওয়া হয় না। কেউ তাদের কর্মী পরিচয় দিয়ে ফোন করলেও গ্রাহককে নিজেদের তথ্য জানাতে নিষেধ করা হয়েছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ফোনে কেওয়াইসি দেবেন না। যে কোনও অজানা লিঙ্ক বা অ্যাপ ডাউনলোড থেকেও বিরত থাকুন।
সূত্র: আনন্দবাজার।
