বিস্কুট খাওয়ার ‘অপরাধ’

শিশু শ্রমিককে উত্তপ্ত রড দিয়ে নির্যাতন

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার একটি বেকারিতে শিশু শ্রমিককে বিস্কুট খাওয়ার ‘অপরাধে’ লোহার উত্তপ্ত রড দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিন আগে স্থানীয় ইসলামিয়া বেকারিতে ঘটনাটি ঘটলেও নির্যাতনের শিকার জুনাইদ (১২) গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনকে জানায়। এরপর তার শরীরের ক্ষতস্থানের কয়েকটি ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা যান ওই বেকারিতে। নির্যাতনের শিকার জুনাইদের বাড়ি কুমিল্লা শহরে।

শিশু শ্রমিক জুনাইদ সাংবাদিকদের জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে সে ইসলামিয়া বেকারিতে কাজ করে। কাজ করার সময় ক্ষুধা লাগায় তিন দিন আগে সে একটি বিস্কুট ও একটি ডিম খেয়ে ফেলে। এই ‘অপরাধে’ বেকারিটির কারিগর সাবু ও মালিক বায়েজিদ আহাম্মদ লোহার উত্তপ্ত রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে।

তার ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে জুনাইদ দেশ রূপান্তরকে বলে, ‘গত তিন মাস ধরে আমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। প্রতিবাদ করলে আমাকে বেকারির চুলায় ফেলে দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিত।’

ইসলামিয়া বেকারিতে রান্নার দায়িত্বে থাকা নারী শ্রমিক নাজমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রায় সময়ই জুনাইদসহ এখানে কর্মরত অন্য শিশুদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। বিষয়টি আমি মালিক বায়েজিদকে বেশ কয়েকবার জানিয়েছি। কিন্তু আমার কথা তিনি আমলে নেননি।’

ইসলামিয়া বেকারির মালিক বায়েজিদ আহাম্মদ জুনাইদকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই শিশুকে আমি মারিনি। বেকারির মিস্ত্রি সাবু মেরেছে। আমি পরে বিষয়টি শুনেছি।’

এদিকে জুনাইদের শরীরের ক্ষতস্থানের কয়েকটি ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-ই আলম এবং আখাউড়া থানার ওসি রসুল আহাম্মেদ নিজামী ঘটনাস্থলে যান। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বানানোর অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ইসলামিয়া বেকারি সিলগালা করে দেওয়া হয়। এছাড়া বেকারির মালিক বায়েজিদসহ অন্যদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-ই আলম বলেন, ‘শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর অপরাধে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসলামিয়া বেকারি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত