ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এসকে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেছে আদালত।
সাক্ষ্য দেওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন সোনালী ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার সাদিকুল ইসলাম ও শাখওয়াত হোসেন মিশন এবং একই শাখার সিনিয়র অফিসার আওলাদ হোসেন। এ নিয়ে মামলাটিতে অভিযোগপত্রভুক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।
এর আগে গত ১৩ আগস্ট এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। গত ৫ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। এরপর আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের হাজির হতে নির্দেশনা দেন।
গত ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে কমিশনের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পরিচালক বেনজীর আহমেদ মামলার অভিযোগপত্র দেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ তদন্তকালে মারা যাওয়ায় তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
