রাজধানী থেকে ৩০ হাজার কুকুর স্থানান্তর করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরব হয়েছেন ঢাকা-কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। ইতিমধ্যে শামিল হয়েছিলেন একটি প্রতিবাদী উদ্যোগেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছেন বার্তা।
এবারর ‘আরেকটু প্রাণবিক, মানবিক’ হওয়ার আহ্বান জানালেন একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার-জয়ী নায়িকা। আরও বলেন, পথকুকুরের ওপর টিকা কর্মসূচি চালানোর ব্যর্থতা ঢাকতে তাদের ওপর এ জাতীয় নিষ্ঠুরতা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জয়া ফেইসবুকে লিখলেন, “দেশের প্রাণী নিষ্ঠুরতা আইন ২০১৯ অনুযায়ী, পথকুকুরদের হত্যা করা নিষিদ্ধ। কুকুর নিধন ও অপসারণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও পথকুকুরদের ওপর টিকা কর্মসূচি চালানোর ব্যর্থতা ঢাকতে তাদের ওপর এ জাতীয় নিষ্ঠুরতা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার পথনিবাসী কুকুরদের সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানাতে তাই কভিড–১৯ এর সময় ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও আমরা শিল্পী ও প্রাণীপ্রেমিকেরা পথে নেমেছিলাম।
তারপরও শুনতে পেলাম এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কিছু পথকুকুরকে মাতুয়াইলে সরিয়ে নিয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি, এটি সবে শুরু। শিগগিরই ঢাকা কুকুরশূন্য করা হবে।”
“প্রাণীগুলো নির্বাক বলে ওদের পক্ষে কেউ দাঁড়াবেন না? প্রকৃতির ওপর আমাদের সীমাহীন নিষ্ঠুরতার পরিণাম করোনার এই অতিমারির পরও আমরা মনের চোখ খুলব না?
এবার আমরা থামি। আরেকটু প্রাণবিক হই। মানবিক হই।”
গত মাসের শেষ দিকে রাজধানীর সাত মসজিদ রোডের ১০ নম্বর সড়ক জুড়ে আয়োজন করা হয় দেয়ালচিত্রের। কুকুর-বেড়ালদের নিয়ে এই দেয়ালচিত্র প্রদর্শনীতে হাজির হয়েছিলেন জয়া আহসান ও কাজী নওশাবা আহমেদ।
এ দিকে করোনার কারণে অনেক দিন অভিনয় থেকে দূরে আছেন জয়া। সম্প্রতি কলকাতার সংগীতকার তথা জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেপরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর একটি ছবিতে জয়া আহসানের যুক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ছবিটির নাম ‘অসতো মা সদগময়’। ইন্দ্রদীপের ভাবনাতেই করোনা পরিস্থিতি ফ্রেমে তুলে ধরবেন জয়া আহসান ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এর আগে দুই তারকা ‘রবিবার’ নামের একটি ছবি করেন।
মানবজীবন কীভাবে করোনা আবহের কঠিন সময়ের সঙ্গে যুঝে চলেছে, সেই গল্পই ইন্দ্রদীপের হাত ধরে ফুটে উঠবে পর্দায়। জয়া-প্রসেনজিতের সঙ্গে আরও অভিনয় করবেন রুদ্রনীল ঘোষ ও অরুণ মুখোপাধ্যায়।
জয়াকে সর্বশেষ দেখা গেছে কলকাতার ‘রবিবার’ ছবিতে। মুক্তির অপেক্ষায় আছে অর্ধাঙ্গিনী, বিনি সুতোয়, ভূতপরী ও ঢাকার ‘অলাতচক্র’।
