দিনের পর দিন করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের অধিকাংশ হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যাই বেশি। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত হচ্ছে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা পরিষেবা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি সমীক্ষায় দেখেছে করোনা মহামারীর জেরে বিশ্বের ৯০ শতাংশ দেশে জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা একেবারে বিপর্যস্ত। মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউএনএইডসের এক যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, করোনার পরিস্থিতির জেরে বিশ্বের অন্তত ৭৩টি দেশে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের জোগানে ব্যাপক হারে টান পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এর ফলে ভেঙে পড়েছে বিশ্বের চিকিৎসা পরিকাঠামো।
মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চলা এই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী এইডসে আক্রান্তদের ৩৩ শতাংশের চিকিৎসাই এখন থমকে গেছে। একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ক্যানসারের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও।
এই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী করোনা মহামারীর জেরে নিয়মিত টিকাকরণ পরিষেবা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধাভিত্তিক পরিষেবাগুলোর ৬১ শতাংশ পর্যন্ত বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। সংক্রামক রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রায় ৬৯ শতাংশ পরিষেবা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা এবং গর্ভনিরোধক পরিষেবাগুলো বিশ্বের প্রায় ৬৮ শতাংশ দেশেই বিপর্যস্ত। মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরিষেবাগুলো বিশ্বের প্রায় ৬১ শতাংশ দেশেই থমকে গেছে। ক্যানসারের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিশ্বের প্রায় ৫৫ শতাংশ দেশে পরিষেবা বিঘিœত হয়েছে এই করোনা মহামারীর কারণে।
সম্প্রতি ‘ল্যান্সেট গ্লোবাল হেলথ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ মাসে বিশ্বের ১১৮টি দেশে পাঁচ বছরেরও কম বয়সী প্রায় ২.৫ মিলিয়ন (২৫ লাখ) শিশুর মৃত্যু হতে পারে।
ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হেনরিটা ফোর জানান, এই প্রথম সারা বিশ্বে এত শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউনিসেফের আশঙ্কা, করোনার জেরে বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিপর্যস্ত পরিকাঠামোর ফলে আগামী ছয় মাসে মৃত্যু হতে পারে ৫৬ হাজার ৭০০ জন মায়েরও। ফলে সব মিলিয়ে করোনা মহামারীর জেরে বিশ্বজুড়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা বড়সড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি।
