নীতিমালা পরিবর্তনের পরও স্টক এক্সচেঞ্জের জেড ক্যাটাগরিতে এখনো ৪২টি কোম্পানি রয়েছে। ইতিমধ্যেই এসব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনার নির্দেশনা দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এবার এই শ্রেণিভুক্ত ২২ কোম্পানিকে পরিচালন ও আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। জেড ক্যাটাগরি থেকে বের করে আনতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে এসইসি।
গতকাল ২২ কোম্পানিকে ব্যবসায়িক পরিকল্পনার বিশদ জিজ্ঞাসা করে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন, যাতে লাভজনকভাবে এসব কোম্পানি পরিচালনা করা যায়। পাশাপাশি জেড-ক্যাটাগরি থেকে বেরিয়ে আসার কৌশলগত কর্মপরিকল্পনাও জানতে চেয়েছে এসইসি। নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মপরিকল্পনা এবং আর্থিক বিবৃতি, সম্পদের স্থিতি, ব্যাংকের দায়বদ্ধতা, আইপিও প্রসপেক্টাস, ট্যাক্স/ভ্যাট রিটার্নের বিবরণসহ বিভিন্ন নথি নিয়ে চলতি মাসের বিভিন্ন তারিখে জেড ক্যাটাগরিতে থাকা ওই ২২ কোম্পানিকে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা জানতে শুনানির জন্য কমিশনে উপস্থিত থাকতে হবে।
এসইসিতে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কারণ এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা জানাতে হবে। এসইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেড ক্যাটাগরিতে দুই থেকে পাঁচ বছর ধরে রয়েছে এমন ২২ কোম্পানিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এই কোম্পানিগুলো নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভাও (এজিএম) করে না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে উৎপানে নেই এবং ধারাবাহিক লোকসানে রয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে না এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে লভ্যাংশ পাচ্ছেন না। এসব কোম্পানিকে অবশ্যই ১ সেপ্টেম্বর জারি করা এসইসি বিজ্ঞপ্তির পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এসইসির ওই আদেশে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জেড-ক্যাটাগরিভুক্ত থাকা কোম্পানিগুলোকে তাদের পরিচালনা পর্ষদ ৪৫ দিনের মধ্যে পুনর্গঠন করতে বলেছে। এটি করতে ব্যর্থ হলে বর্তমান পরিচালক ও উদ্যোক্তারা অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী কোনো কোম্পানির পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন না। কমিশন এ ক্ষেত্রে বিশেষ নিরীক্ষক ও কমিশন কর্তৃক পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বোর্ড পুনর্গঠন করে ‘জেড’ গ্রুপে কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করবে। পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ চার বছরের মধ্যে কোম্পানির সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলে স্টক এক্সচেঞ্জ ওই কোম্পানিকে তালিকাচ্যুতিসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
১ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত এক নোটিফিকেশনে এসইসি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়া জেড গ্রুপে থাকা কোম্পানির উদ্যোক্তা ও বর্তমান পরিচালকরা তাদের ধারণ করা শেয়ার বিক্রয়, ক্রয়, হস্তান্তর এবং প্লেজ করতে পারবেন না। এই গ্রুপে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোকে ছয় মাসের মধ্যে এজিএম করতে হবে। সব ধরনের শেয়ারহোল্ডার মিটিং (এজিএম/ইজিএম) ই-ভোটিং/অনলাইন ভোটিংয়ের সুবিধা দিয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্মে অথবা হাইব্রিড সিস্টেমে করতে হবে।
