ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি শামস মাহমুদ বলেছেন, করোনার কারণে দেশে তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সেবা অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এ খাতের অগ্রগতির জন্য আমাদের প্রস্তুতি এখনো কাক্সিক্ষত মাত্রায় নয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রস্তাবিত শিল্পনীতিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা থাকা খুবই আবশ্যক। এ সুবিধা নিতে সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ ও এর যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডিসিসিআই আয়োজিত ‘কভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তিনি। এতে অংশ নেন ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়নসহ গোটা অর্থনৈতিক কর্মকা-ে ভূমিকা রাখছে। আমাদের শিল্প খাতে এর সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন, শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ এ খাতের উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদান খুবই জরুরি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নতুন নতুন ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচনা করেছে জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে অসংখ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। তবে এজন্য সমন্বিত নীতিমালা গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব কীভাবে কাজ করবে এবং কীভাবে এতে মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়, তার ওপর নির্ভর করে এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের মধ্যে শহরাঞ্চলগুলো ও উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় ৫জি সুবিধা দেওয়া যাবে। এছাড়াও তিনি দেশের শিক্ষাকার্যক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরাগ বলেন, এসএমই উদ্যোক্তারা তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন পণ্য তৈরি করছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নতুন পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরির সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। এ সুযোগ নিতে আমাদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও জানান, সমন্বিত শিল্পনীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বিশ^বাজারে টিকে থাকতে হলে উদ্যোক্তাদের অবশ্যই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে গ্রহণ করার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
