ধামরাইয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গলা কেটে হত্যা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৫ এএম

ঢাকার ধামরাইয়ে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে জুলহাস উদ্দিন (৩৫) নামে স্থানীয় এক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া গ্রামে কালীমন্দিরের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জের ধরে জুলহাসের ওপর হামলা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জুলহাস গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতকোরা গ্রামের প্রয়াত রইস উদ্দিনের ছেলে। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিজয় টিভির ধামরাই উপজেলা প্রতিনিধি এবং ধামরাই প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি ছিলেন। তার ওপর হামলাকারী দুজনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন সাংবাদিক জুলহাসের দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রথম স্বামী মো. শাহীন (৩৫) ও তার সহযোগী মোয়াজ্জেম (৩২)। তাদের দুজনেরই বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায়। এর মধ্যে মোয়াজ্জেম রাজধানীর রাজপথ নামে একটি পত্রিকার মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য রবিউল আওয়াল হাসু জানান, বেলা ৩টার দিকে বারবাড়িয়া গ্রামের কালীমন্দিরের পাশে দুজন ব্যক্তি সাংবাদিক জুলহাসের ওপর হামলা চালান। তারা জুলহাসের পেটে ছুরিকাঘাতের পর গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় জুলহাসের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করেন। তখন গ্রামবাসী ধাওয়া করে হামলাকারী শাহীন ও মোয়াজ্জেমকে ধরে ফেলে। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলহাস মানিকগঞ্জ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বাসে করে এসে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বারবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে এসে নামেন। এর পরপরই শাহীন ও তার বন্ধু মোয়াজ্জেম হামলা চালান। তারা জুলহাসকে অনুসরণ করে একই বাসে বারবাড়িয়া আসেন।

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, হামলার পর জুলহাসকে প্রথমে সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পারিবারিক কলহের জেরে জুলহাসের ওপর হামলা হয় জানিয়ে ওসি বলেন, ‘জুলহাস বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়। হামলাকারীরা আগে থেকে ঘটনাস্থলে ওত পেতে ছিল। জুলহাসের দ্বিতীয় স্ত্রী সোমা আক্তারের প্রথম স্বামী শাহীন ও তার সহযোগী মোয়াজ্জেম মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে। শাহীন তার স্ত্রীকে বিয়ে করার ক্ষোভ থেকেই জুলহাসকে হত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’ জুলহাস হত্যায় ব্যবহার করা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি দীপক।

দক্ষিণ হাতকোরা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাংবাদিক জুলহাস সাত বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দুই বছর আগে তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বারাহিরচর গ্রামের শাহীন হোসেনের স্ত্রী সোমা আক্তারকে বিয়ে করেন।

সাংবাদিক জুলহাসকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ধামরাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু হাসান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান। তারা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত