রাজশাহীতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ই-বর্জ্য

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫৪ এএম

ইলেকট্রনিকস পণ্যে জীবন আরও সহজ হয়েছে। কিন্তু বর্জ্যে পরিণত হয়ে এগুলোই আবার পরিবেশ দূষণ করছে। মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রাজশাহীতে দিন দিন বেড়েই চলেছে ইলেকট্রনিকস ওয়েস্ট বা ই-বর্জ্য। অপচনশীল এসব বর্জ্য ড্রেন ও যত্রতত্র ফেলায় তা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত পদার্থ। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো আইন না থাকায় তাদের আসলে কিছুই করার নেই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, কম্পিউটার, মুঠোফোনের মতো নিত্যব্যবহারের ইলেকট্রনিকস পণ্যগুলো কার্যক্ষমতা হারানোর পর ফেলে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ই-বর্জ্য পচে না, বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণ করে। এ থেকে পরিবেশের ক্ষতি ছাড়াও প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ ত্বকের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরে এসব উপাদান কিডনি, ফুসফুস ও ব্রেনের মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক।

নগরীর সাহেববাজার, আলুপট্টি, রেলগেট, স্টেডিয়াম মার্কেট, তেরখাদিয়া, ভদ্রারমোড়ে কম্পিউটার, ফ্রিজ, এসি, টিভির মতো পুরনো ইলেকট্রনিকস পণ্য বেচাকেনা হয়। এর মধ্যে ভদ্রারমোড়ের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীরা তা ভেঙে আলাদা করে থাকেন। ভাঙ্গারি শ্রমিক শফিকুল ইসলাম জানান, খালি হাতেই তিনি পণ্যগুলো ভেঙে আলাদা করেন। প্রয়োজনীয় পার্টস রেখে বর্জ্যগুলো ডাস্টবিন ও ড্রেনে ফেলে দেন।

সাহেববাজার এলাকার টেলিভিশন মেকানিক শহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ১৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি পুরনো ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ভেঙে প্রয়োজনীয় পার্টস রেখে বাকি অংশ ফেলে দেন। তবে এসব বর্জ্য থেকে ক্ষতির বিষয়ে কোনো ধারণা নেই বলে জানান তিনি।

ই-বর্জ্য নিয়ে কাজ করা ঊহারৎড়হসবহঃ ধহফ ঝড়পরধষ উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঙৎমধহরুধঃরড়হ-এর গবেষক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন অসংখ্য ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নষ্ট হচ্ছে, সেগুলো যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু এগুলো যথাযথ ব্যবস্থাপনায় ধ্বংস করা হচ্ছে না। ফলে ডিভাইসের কেমিক্যাল, হেভি মেটাল, সিসা থেকে পরিবেশ দূষণ ও ক্যানসারের মতো জটিল রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন।’

রাজশাহী পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়কারী তন্ময় সান্যাল বলেন, ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশে কোনো আইন নেই। ফলে এগুলো আমাদের পরিবেশ ও মানুষের ব্যাপক ক্ষতি করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।’

রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, ‘ই-বর্জ্য নিয়ে আমাদের তেমন কিছুই করার নেই। দোকানদাররা ই-বর্জ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য পার্টস রেখে বাকি অংশ ভাগাড়ে ফেলছেন। এসব বর্জ্য ধ্বংসে সঠিক ব্যবস্থাপনা দরকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত