ডায়াবেটিস টাইপ-২ চিকিৎসায় কার্যকর উপায় উদ্ভাবন

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৪৮ এএম

ডায়াবেটিসের সবচেয়ে খারাপ ধাপ বলা হয় ‘টাইপ-২’ কে। এই টাইপে আক্রান্ত মানুষের শরীরে ইনসুলিন হরমোন তৈরি হতে পারে না। ইনসুলিন হরমোন কোণে রক্তের গ্লুকোজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি অস্ট্রেলীয় গবেষকরা প্রথমবারের মতো ডায়াবেটিস টাইপ-২ নিরাময়ের উপায় উদ্ভাবন করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বর্তমানে বিশ্বে ৪০ কোটি মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের গবেষকরা দাবি করেছেন, মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি একটি প্রোটিন ব্যবহার করে ডায়াবেটিস টাইপ-২ নিরাময় সম্ভব এবং এটি বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে বেশি কার্যকর। বর্তমান পদ্ধতি স্বল্পস্থায়ী এবং এর উল্লেখযোগ্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

গবেষকদল এসএমওসি-১ নামে একটি প্রোটিনের সন্ধান পেয়েছেন, এটি প্রাকৃতিকভাবেই মানুষের লিভারের মধ্যে তৈরি হয়। এই প্রোটিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এসএমওসি-১ রক্তে উচ্চমাত্রায় গ্লুকোজ রয়েছে, এমন ডায়াবেটিস টাইপ-২ রোগীর চিকিৎসায় কার্যকর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গবেষকরা কৃত্রিমভাবে উদ্ভাবিত এসএমওসি-১ প্রাণী দেহে পরীক্ষা চালিয়ে কার্যকরভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক ম্যাগডালিন মন্টগোমারি বলেন, ‘মেটফর্মিন নামক বর্তমান ফ্রন্টলাইন ওষুধের চেয়ে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে এটি আরও বেশি কার্যকর। এটি ফ্যাটি লিভার এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও হ্রাস করে, যা ডায়াবেটিস-২ টাইপ রোগীদের সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে বিপুলসংখ্যক মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং তাদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমানোর জন্য যে-কোনো থেরাপিতে রোগীর জন্য ব্যাপক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে।’

অস্ট্রেলীয় গবেষকরা এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এই প্রোটিনের হিউম্যান টেস্টে যাবেন। এই পরীক্ষা সফল হলেই যত দ্রুত সম্ভব বাজারে টাইপ-২ ডায়বেটিস নিরাময়ী ওষুধ চলে আসবে।

মধ্যবয়সী বা বয়স্ক মানুষদের মধ্যেই টাইপ-২ বেশি দেখা যায়, যদিও এটা কখনো কখনো এবং ক্রমশ অল্পবয়সীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস দেখা দিলেও শরীর তখনও কিছুটা ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে, কিন্তু তার পরিমাণ যথেষ্ট হয় না, অথবা তখন উৎপন্ন হওয়া ইনসুলিন যথাযথভাবে কাজ করে না। যাদের ওজন খুব বেশি, বিশেষত তাদের ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়াবেটিস দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটা বংশগতভাবে চলতে থাকে এবং দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকান-ক্যারিবিয়ান সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বেশি সাধারণভাবে দেখা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত