লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার ফিলিপ হার্টগকে ১৯২১-এর জুলাইয়ের ক’মাস আগেই ১৯২০ সালের ডিসেম্বরে চার হাজার টাকা বেতনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগ দিতে হয়। শুরুর দিকের কাজগুলো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিধিবিধান প্রণয়ন, শিক্ষক নিয়োগ আগেভাগে না করলে জুলাইয়ের প্রথম দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু করা সম্ভব হতো না।
ফিলিপ জোসেফ হার্টগ সাহেবের জন্ম ১৮৬৪ সালের ২ মার্চ, লন্ডনে। তার বাবা আলফোঁস হার্টগ নেদারল্যান্ডসের ইহুদি পরিবারের সন্তান। বসতি স্থাপন করেন প্যারিসে। লন্ডনে আসেন ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচার হিসেবে। জোসেফের পড়াশোনা লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ স্কুলে, আর ম্যানচেস্টার ওয়েনস কলেজে। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি, লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে রসায়নে আরও একটি বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করলেন। ফ্রান্স ও জার্মানিতে কবছর গবেষণার কাজ করে ওয়েলস কলেজ এবং ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিতে কিছুকাল শিক্ষকতা করে ১৯০৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দিলেন। ১৭ বছর এ দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে ১৯১৭ সালে মাইকেল ম্যাডলারের নেতৃত্বে গঠিত কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় কমিশনের সদস্য হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে ১৯২৫ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ভারতীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য নিযুক্ত হন। তারপর ১৯২৮-২৯-এ ভারতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান। তিনি ভারতীয় স্ট্যাচুটরি কমিশন অন কনস্টিটিউশনাল অ্যাডভান্স ইন ইন্ডিয়ার পক্ষে অনুসন্ধানমূলক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩০ সালে ব্রিটেন তাকে নাইটহুড প্রদান করে। ১৭ জুন ১৯৪৭ তার মৃত্যু হয়। তিনি রসায়ন শাস্ত্রের শিক্ষার্থী ছিলেন, কিন্তু গ্রন্থ রচনা করেছেন সংস্কৃতির সমাজতত্ত্ব ও ইতিহাস নিয়ে ‘কালচার : ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড মিনিং’। শিক্ষা ও পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে তার আরও দুটি বই রয়েছে। উপমহাদেশীয় ভাষা হিন্দি, উর্দু ও বাংলা তিনি রপ্ত করেছিলেন। ইউরোপীয় ভাষা জার্মান, ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজিতেও তিনি দক্ষ ছিলেন। পরবর্তীকালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখেছেন : ‘স্যার ফিলিপ হার্টগ অতি যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। প্রথমাবধিই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য যথেষ্ট চিন্তা ও পরিশ্রম করতেন। তিনি যেসব নিয়মকানুন প্রবর্তন করেছিলেন, পরবর্তীকালে তারই ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক রকম উন্নতি সম্ভবপর হয়েছিল। সাধারণত এ দেশের বিশ^বিদ্যালয়ে যেসব দোষত্রুটি দেখা যায়, তার অনেকগুলো যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেনি, তার জন্য হার্টগের যথেষ্ট কৃতিত্ব আছে।’
হার্টগ সাহেবের সময় রাজনৈতিক দলদাস চাটুকার সৃষ্টি হয়নি। কাজেই তিনি স্বাধীনভাবে শিক্ষক নিয়োগ করতে পেরেছেন। একালে সম্ভব নয়, কারণ ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ারও এটিই প্রধান যোগ্যতা দলদাসত্ব। অন্যসব যোগ্যতায় অনুত্তীর্ণ হলেও তেমন কিছু এসে যায় না, যদি দাসত্ব সূচকে তিনি এগিয়ে থাকেন বলেই অন্যদের নক-আউট করতে পারেন। হার্টগ সাহেব যোগদান করেই কজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নিয়োগ করলেন। ১৯২১-এর মে মাসে তাদের সবাইকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানালেন। তিনি তাদের নিয়ে পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, শিক্ষক নিয়োগবিধি, পরীক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষকদের বিদায় ও অবসর, প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করলেন। সে সভায় কলকাতা থেকে রমেশচন্দ্র মজুমদারও এসেছিলেন। রমেশচন্দ্র লিখেছেন : ‘এই মিটিং শেষ করে আমি আবার কলকাতায় ফিরে আসি। তারপর জুন মাসের শেষে আবার যাত্রা করি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই একসঙ্গে নতুন কর্মস্থলে যাত্রা করেন। আমাদের দলে সত্যেন বসু, নলিনী বসু, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, হরিদাস ভট্টাচার্য প্রমুখ ছিলেন। আমাদের যাওয়ার কিছুদিন পরে জ্ঞান ঘোষ বিলেত থেকে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।’
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ঢাকাকে পূর্ববঙ্গ ও আসামের রাজধানীতে পরিণত করে এবং রমনার বিভিন্ন অংশে দপ্তর ও সুন্দর আবাসন গড়ে ওঠে। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়ে যাওয়ায় রাজধানী কমপ্লেক্সের দালানকোঠা খালি হয়ে গেল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সেসব বাড়িঘরের কিছু অংশ দাবি করলেন এবং বেশ দর-কষাকষির পর পেয়েও গেলেন। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন বাংলা সরকারের ক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে শিক্ষার দায়িত্ব বাংলা সরকারের ওপর ন্যস্ত হয়, মন্ত্রী তখন প্রভাসচন্দ্র মিত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জানিয়ে দিলেন তাদের শিক্ষকদের যে বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বাংলা সরকারের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব নয়। ভারত সরকার প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতি বছর যে বরাদ্দ মঞ্জুর করেছে, তাতে সঞ্চিতি ছিল ৫৪ লাখ টাকা। এই টাকা চাওয়া হলে ভারত সরকার জানিয়ে দেয়, ওই টাকার বিনিময়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসনের জন্য বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর হার্টগ ভারত সরকারকে বললেন, তাদের অনুমোদন নিয়েই শিক্ষকদের বেতন ধার্য করা হয়েছিল। জবাবে তাকে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাংলা সরকারের নিয়ন্ত্রণে, কেন্দ্র থেকে বাংলাকে কোনো নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। রমেশচন্দ্র লিখেছেন, অধ্যাপকদের ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকার বেতন কমিয়ে ১০০০ টাকায় স্থির করা হয়। আনুপাতিক হারে কমে যায় অন্য শিক্ষকদের বেতন। ইতিহাস বিভাগে দুজন অধ্যাপক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় ইতিহাসের জন্য একজন, ইউরোপীয় ইতিহাসের জন্য একজন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভারতীয় ইতিহাসের অধ্যাপক নিযুক্ত হয়েছিলাম। স্থির ছিল ইউরোপীয় ইতিহাসের অধ্যাপক বিভাগের অধ্যক্ষ হবেন। এই পদে একজন ইংরেজ নিযুক্ত হবেন, এমন ধারণা ছিল। এ কারণে বিভাগীয় অধ্যক্ষের জন্য ২৫০ টাকা অতিরিক্ত ভাতা নির্দিষ্ট ছিল। অধ্যাপকের মাইনে কমে ১০০০ টাকা স্থির হওয়ায় ইংরেজ অধ্যাপক আসার আর কোনো সম্ভাবনা রইল না। সুতরাং আমিই একমাত্র অধ্যাপক হওয়ায় ওই বিভাগের অধ্যক্ষ হলাম। তখন আমি অধ্যক্ষের জন্য নির্দিষ্ট অতিরিক্ত ভাতা দাবি করি। কিছুদিন গোলযোগের পর তা আমাকে দেওয়া হয়।’ ১৯৩৬ থেকে ১৯৪২ পর্যন্ত রমেশচন্দ্র মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। স্যার ফিলিপ হার্টগ, জর্জ হ্যারি ল্যাঙ্গলি, স্যার আহমদ ফজলুর রহমানের পর চতুর্থ ভাইস চ্যান্সেলর তিনি। তার জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুরে ১৮৮৮ সালে, ১৯৮০ সালে তিনি প্রয়াত হন। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ইতিহাসের শিক্ষার্থী ছিলেন। কর্মজীবনের সূচনা ঢাকাতেই টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ১৯১৩ সালে। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, পিএইচডি সেখানেই। তিনি বাংলার শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিকদের অন্যতম একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি পুরনো বিতর্ক হিন্দুদের কী ভূমিকা, রবীন্দ্রনাথ কী বলেছেন এসব উত্থাপনের একটি প্রবণতা রয়েছে এর পেছনে এক ধরনের ধর্মীয় প্ররোচনা কাজ করে। সে ক্ষেত্রে বিপরীত একটি চিত্র কল্পনা করলে এ প্রশ্ন ম্লান হয়ে যায়। যদি পশ্চিমবঙ্গ মুসলমান প্রধান অঞ্চল হতো, যদি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আশুতোষ মুখার্জির জায়গায় একজন মুসলমান ভাইস চ্যান্সেলর থাকতেন, বিশ^বিদ্যালয়ের যদি মুসলমান আধিপত্য থাকত, তাহলে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ একই রকম বাধার সম্মুখীন হতো। বহু বছর আগে রমেশচন্দ্র মজুমদার তার লেখায় সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাতে এ ধরনের আলোচনার সমাপ্তি হওয়ার কথা। ‘ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন যে হিন্দুরা ভালো চোখে দেখেননি, এ কথা আগেই বলেছি। কারণ হিন্দুদের বিশ্বাস ছিল বঙ্গভঙ্গ রহিত করায় মুসলমানদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করার জন্যই এই নতুন বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় পদে হিন্দু শিক্ষকরাই অধিষ্ঠিত ছিলেন, তথাপি কোর্টের হিন্দু সভ্যরা বিশ^বিদ্যালয়কে প্রীতির চোখে দেখেননি। বাইরে এ বিষয়ে আলোচনা হতো, কোর্টের সভায় হিন্দু সভ্যদের বক্তৃতায় তা প্রতিধ্বনিত হয়। রমনার যেসব বড় বাড়ি দখল করে আমরা শিক্ষকরা বাস করছিলাম, এটাতেই তাদের ঘোরতর আপত্তি ছিল। একবার তাদের একজনকে বলেছিলাম যে, আমরা না এলে এ বাড়ি তো আপনাদের দিত না। সুতরাং হিংসে করেন কেন? কিন্তু বহু দিন পর্যন্ত এ মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেনি। কোর্টের অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনেক প্রস্তাব ও বক্তৃতা হতো।’ তিনি আরও কিছু বাস্তবচিত্র তুলে ধরেছেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সূচনাতে আশঙ্কা করা হয়েছিল, হিন্দু-মুসলমান প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক বিরোধ দেখা দেবে। কার্যত তেমন কিছুই হয়নি, একমাত্র শিক্ষক নিয়োগের সময় মুসলমান সভ্যরা প্রভাব বিস্তার করতেন, কখনো সফলও হতেন।
‘এ বিষয়ে তাদের অনেকের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি। বলেছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের উৎকর্ষনির্ভর করে তার শিক্ষকমন্ডলীর ওপরে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানত মুসলমান ছাত্রদের কল্যাণের জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং যোগ্য শিক্ষক যদি নিযুক্ত না হন, তাহলে মুসলমান ছাত্রদের পক্ষেই তা পরিণামে অনিষ্টের কারণ হবে। এর উত্তরে তারা যা বলতেন, সেটিও খুবই বিচার বিবেচনা করে দেখার মতো। তাদের মতে, প্রধান প্রধান অধ্যাপক (প্রফেসর, রিডার) নিয়োগের বেলায় সাম্প্রদায়িক কোনো প্রশ্নই তোলা উচিত নয়। গুণানুসারে যাতে যোগ্যতম ব্যক্তিই নিযুক্ত হন, তা তারা সম্পূর্ণ অনুমোদন করেন। কিন্তু অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেলায় কতকাংশে নিকৃষ্ট হলেও তারা মুসলমানকে নিযুক্ত করতে চান। তার কারণ এই যে, বাংলাদেশে বিশেষত পূর্ববঙ্গে মুসলমানদের অবনতির একটি প্রধান কারণ, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের অভাব। তাদের মধ্যে কিছু জমিদার আছেন, বাকি সবাই কৃষক। হিন্দুদের মধ্যে যেমন শিক্ষক, উকিল, ডাক্তার প্রভৃতি শ্রেণির মধ্যবিত্ত লোকরাই সমাজের শীর্ষস্থানে রয়েছেন, তারাও তাই নিজেদের সমাজে করতে চান। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণি সৃষ্টি করতে হলে শিক্ষক দিয়েই তা আরম্ভ করতে হবে।’
এ যুক্তি যে অসার নয়, রমেশচন্দ্র মজুমদার তা স্বীকার করেছেন। তিনি প্রশাসক হিসেবে হার্টগ সাহেবকে অনুসরণ করেছেন। শিক্ষক হিসেবে ছিলেন অসনাতন, সত্যান্বেষী। নীরোদ চৌধুরী শিক্ষক হিসেবে তার খুব প্রশংসা করেছেন। গান্ধী বা নেহরুর জন্য স্বাধীনতা আসেনি, এসেছে সুভাষ বসুর জন্য তার এ মন্তব্য ১৯৪৭-পরবর্তী ভারত সরকারকে চটিয়েছে। তিনি ফরমায়েশি বা ইতিহাস লেখক নন, তার প্রিয় ছাত্রদেরও সরকারের প্রভাববলয় থেকে দূরে রাখতে চেয়েছেন। তার ইতিহাস দর্শন নিয়ে পৃথক প্রবন্ধ রচিত হয়েছে, আরও হওয়া প্রয়োজন। ফিলিপ হার্টগ সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে রমেশচন্দ্র মজুমদার স্পষ্টভাবে বলেছেন, হার্টগ সাহেবের কারণে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পরীক্ষা গ্রহণের ধরন ও আদর্শ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিন্ন ধরনের ছিল এবং বিরুদ্ধপক্ষের লোকও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সততা সম্পর্কে উচ্চ প্রশংসা করেছেন। একজন শিক্ষকের খেয়ালিপনায় কোনো শিক্ষার্থী নম্বর বেশি পাবে বা কম পাবে হার্টগ সাহেব তা ঠেকাতে চেয়েছেন। অনার্স এবং এমএ পরীক্ষার খাতার মূল্যায়ন দুজন পরীক্ষক করতেন, যদি দুজনের নম্বরের তফাৎ শতকরা দশের বেশি হতো মূল্যায়নের জন্য তৃতীয় পরীক্ষককে আহ্বান করা হতো। তারপর মৌখিক পরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীকে বোর্ডের সামনে হাজির হতে হতো, প্রায় শতবর্ষ আগে টিউটোরিয়াল ক্লাস ও পরীক্ষার মূল্যায়ন চূড়ান্ত পর্বে যোগ হতো। তার উদ্যোগে পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন এনে সমকালীন করা হতো।
রমেশচন্দ্র মজুমদার যখন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়-পরবর্তী সময়ের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিলেন, বাধা এলো, এত নিকটবর্তীকালের ঘটনা ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮৭৮-এর পরবর্তী ঘটনা সিলেবাসভুক্ত হয়নি। ফিলিপ হার্টগ ছিলেন বলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।
লেখক সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট
[email protected]
