নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনাকে নাশকতা বলে মনে করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘এটা দুর্ঘটনা বা নাশকতা আমি কোনোটাই বলব না। কিন্তু আমি নাশকতার বিষয়টিকেও ফেলে দিচ্ছি না, আমরা আশঙ্কা করছি এটা (নাশকতা)। এজন্য আমরা অধিকতর তদন্ত চাই, নামকাওয়াস্তে নয়।’ গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদের বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। তিনি মসজিদের ভেতরে ঘুরে দেখেন।
গত শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় ওই মসজিদ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এরপর রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বম্ব ডিসúোজাল টিমের ইনচার্জ ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রহমতুল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়। বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে মসজিদের চারটি এসির কম্প্রেসরগুলোর একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটেছে। মসজিদের ফ্লোরের নিচে কোনো গ্যাস লাইনও থাকতে পারে।’ সিটিটিসির বম্ব ডিসপোজাল টিমের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
শামীম ওসমান বলেন, ‘২০০১ সালের ১৬ জুন আমাদের ওপর বোমা হামলা হয়েছিল। হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল। আমি বলছি না এর সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে। তবে এর গভীর তদন্ত হতে হবে। কারণ এসির সিলিন্ডার থাকে বাইরে। বিস্ফোরণ ঘটলে বাইরে ঘটবে। আর গ্যাসের লাইন বাইরে। বিস্ফোরণ ঘটলে বাইরে ঘটবে। আর ভেতরে থাকলেও কতটুকু গ্যাস জমে থাকলে এত বড় বিস্ফোরণ ঘটবে সেটা তদন্ত করে দেখা উচিত। দয়া করে এ ঘটনায় কোনো পারসেপশন তৈরি করবেন না। প্রকৃত ঘটনা উদঘটান জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন। যোগাযোগ করছেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। আমরা তাদের দিকে সুদৃষ্টি রাখব। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তারা শহীদী মর্যাদা পেয়ে গেছেন। কী যে ব্যথা, শোক তা যার গেছে সে-ই বুঝতে পারে।’
