পড়ার স্টাইল বা ধরন নিজের সুবিধা মতোই নির্ধারণ করতে হয়। যে পন্থায় শিক্ষার্থী পড়তে পছন্দ করে, সেটাই তার পড়ার স্টাইল হওয়া উচিত। নিজের পছন্দের ধরনটি যত দ্রুত আবিষ্কার করতে পারবে, ততই পড়ালেখা সহজ ও আনন্দময় হবে। লিখেছেন ফখরুল ইসলাম
পড়াশোনার প্রধানত তিনটি স্টাইল রয়েছে। কেউ শুনে শুনে শিখতে পছন্দ করে। কেউ দেখে শিখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আবার কেউ ব্যবহারিক পড়াশোনা ভালোবাসে।
যারা শুনে শিখতে পছন্দ করে, তারা বিষয়বস্তুটি কানে পৌঁছালেই ভালো করে আয়ত্ত করে নিতে পারে। বই থেকে কিছু পড়লে তারা শব্দ করে পড়ে, যেন কানে পৌঁছায়। ক্লাসের কথাগুলোই তারা বেশি মনে রাখতে পারে। তুমি যদি এমন শিক্ষার্থী হয়ে থাকো, তাহলে তোমাকে ক্লাসে অধিক মনোযোগী হতে হবে। গ্রুপস্টাডিও তোমার জন্য কল্যাণকর। স্যারের লেকচারগুলো তুমি রেকর্ড করে রাখতে পারো। বিভিন্ন শিক্ষামূলক সাইটে গিয়ে ভিডিও-অডিও দেখে শিখতে পারো।
অনেক শিক্ষার্থী দেখে দেখে শিখতে পছন্দ করে। তারা বই দেখে নীরবে বিষয়বস্তু আয়ত্ত করে নেয়। মানচিত্র, ডায়াগ্রাম, এমনকি আইডিয়াগুলোও এঁকে আয়ত্ত করতে ভালোবাসে তারা। কখনো কখনো চিত্রে রং ব্যবহার করে তা নিজের কাছে আরও স্পষ্ট করে তোলে। যাই শেখে, মনে মনে ছবি কল্পনা করে নেয়। তুমি যদি এমন স্বভাবের হও, তাইলে নির্জন স্থানে নীরবে পড়াশোনা করাই তোমার উচিত। এক্ষেত্রে ভিডিও দেখাও তোমার দারুণ কাজ দেবে।
কেউ কেউ হাতে-কলমে শিখতে ভালোবাসে। শুনে কিংবা পড়ে আয়ত্ত করা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। তারা প্র্যাকটিক্যাল কাজের মাধ্যমে শিখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তুমি যদি এই ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী হও, তাইলে ব্যবহারিকের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দাও। তোমার দৈনন্দিন পড়াশোনাকে তোমার জীবনের বিভিন্ন কাজে একীভূত করে নাও।
পছন্দ অনুসারেই পড়ার স্টাইল নির্ধারণ করতে হবে। তাই কোন বিষয় কীভাবে পড়লে তুমি সহজে আয়ত্ত করতে পারো, তা আবিষ্কার করো। একবার যদি তা শনাক্ত করতে সক্ষম হলে তোমার জন্য পড়াশোনা পানির মতো সহজ হয়ে যাবে।
