ময়মনসিংহে সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে রাকিব (১৪) নামে এক কিশোর ও ফয়জাল (২১) নামে এক তরুণকে কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে গোলাম মোস্তফা নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনার পর গতকাল রোববার সকালে নির্যাতনের একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গোলাম মোস্তফাকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সিরতা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ আলম বাদশা নির্যাতনের সময় উপস্থিত থাকলেও বাধা দেননি। ওই কিশোর-তরুণ আহাজারি করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য শাহ আলম বাদশাকে পাওয়া যায়নি। তবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদের দাবি শাহ আলম নির্যাতনের সময় বাধা দিয়েছেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী গোলাম মোস্তফার মেয়ের একটি মোবাইল চুরি হয়। এই নিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার ভোরে রাকিব ও ফয়জালকে (২১) ডেকে আনা হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তাদের কোমরে রশি দিয়ে বেঁধে বাঁশ দিয়ে নির্যাতন চালান গোলাম মোস্তফা। গতকাল সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, লুঙ্গি পরে খালি শরীরে দুই কিশোর-তরুণকে বেধড়ক পিটিয়ে যাচ্ছেন মোস্তফা।
এ ঘটনায় শাস্তি দাবি করে নির্যাতিত তরুণ ফয়জালের মা ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো মোবাইল চুরি করেনি। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার ছেলের পাশাপাশি আরেকজন কিশোরকে চোর অপবাদ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমরা গোলাম মোস্তফার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সিরতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ বলেন, ‘চরম অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন গোলাম মোস্তফা। তিনি এ নির্যাতনের ঘটনার সময় আমার ইউপি সদস্য তাকে বাধা দিয়েছেন এবং প্রতিবাদ করেছেন।’
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বলেন, ‘আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। আমরা ভিডিওটি দেখেছি। দুই কিশোর-যুবককে চরম নির্যাতন করেছেন গোলাম মোস্তফা। তার শেষ রক্ষা হয়নি। রবিবার ভোরে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরেরও প্রস্তুতি চলছে।’
