সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাগাতার গুঞ্জন ও বিষোদগারের মধ্যেই ছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। এর ওপর দফায় দফায় সরকারি নানা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে জেরবার তার জীবন। এখন গ্রেপ্তারের জন্য একদম প্রস্তুত সুশান্ত সিং রাজপুতের বান্ধবী। তবে এর মাঝে রিয়াকে নিয়ে সংবাদকর্মীদের আচরণে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
শনিবার সকালে এনসিবি রিয়াকে তাদের মুম্বাইয়ের দপ্তরে তলব করে। বিকেলে মাস্ক পরিহিত রিয়া সেখানে পৌঁছালে সংবাদকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যেই পথ করে অভিনেত্রী পৌঁছান।
করোনা আবহে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি এবং রিয়াকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে এর পর। তাপসী পান্নু, স্বরা ভাস্করের মতো বলিউডের অভিনেত্রীরা এ ব্যাপারে সরব হয়েছেন। এই ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপারসন রেখা শর্মাও।
নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) শনিবার রিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে দিন এই মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রীর আইনজীবী।
মাদক চক্রে যোগের অভিযোগ নিয়ে রিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় এনসিবি। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে গোয়েন্দাদের প্রশ্নের মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। রবিবার আবারও এনসিবি’র মুখোমুখি হন তিনি।
সুশান্তর মৃত্যু তদন্তে মাদক যোগের বিষয়টি রিয়ার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা থেকেই প্রথম সামনে আসে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি)-র তদন্তকারীদের বক্তব্য ছিল, রিয়ার মোবাইল থেকে মিরান্ডা সুসি নামে কারো সঙ্গে মাদক কেনা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, রিয়ার মোবাইলে সেভ করা নাম, মিরান্ডা সুসি আসলে সুশান্তর হাউস ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডা। গত শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে এনসিবি। গ্রেপ্তার হন রিয়ার ভাই শৌভিকও।
এনসিবি’র গোয়েন্দারা দাবি করেন, মাদক চক্রে যোগ রয়েছে এমন অনেকের নামই করেছেন অভিনেত্রীর ভাই।
রিয়ার বাবা ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী ও আইনজীবী মানেশিন্ডের বক্তব্যে স্পষ্ট, রিয়ার গ্রেপ্তারির আশঙ্কা করছেন তারা। শৌভিকের গ্রেপ্তারের পর ক্ষোভ জানিয়ে ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী বলেছিলেন, ‘‘আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করার জন্য ভারতকে অভিনন্দন। আমি নিশ্চিত, এর পরেই আমার মেয়ের পালা...।’’ আইনজীবী বলেন, ‘‘রিয়া চক্রবর্তী গ্রেপ্তারের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন... যেন তেন প্রকারে কাউকে অপরাধী করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যদি কাউকে ভালোবাসা অপরাধ হয়ে থাকে, তার মাশুল উনি দেবেন।’’
মানেশিন্ডের দাবি, রিয়া নির্দোষ। বিহার পুলিশ থেকে শুরু করে সিবিআই, ইডি কিংবা এনসিবি— এত তদন্তের মধ্যেও আদালতে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করেননি তিনি।
