ছোট ভাই সোহেল মিয়া (৩০) কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ। বড় ভাই ইব্রাহিম খলিলের (৩৯) কাছে স্বজনরা জানতে চাইলে তাকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর কথা জানান। কেন্দ্রের ঠিকানার জন্য চাপ দিলে ইব্রাহিম গা-ঢাকা দেন। এতে সবার সন্দেহ হলে তার স্ত্রীকে চাপ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, দেবরকে তার স্বামী হত্যা করে লাশ ঘরের মেঝেতে পুঁতে রেখেছে।
পরকীয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ৩০ আগস্ট কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার আট দিন পর গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সোহেলের গলিত লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।
সোহেল মিয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। তার প্রথম স্ত্রীর সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
নিহতের ভাগ্নে মাইনুদ্দিন জানান, বড় মামি রোজিনার সঙ্গে সোহেলের পরকীয়া নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কলহ চলছিল। এরই জের ধরে গত ৩০ আগস্ট তাদের মধ্যে কথা কাটাকাট ও মারামারি হয়। এ সময় ইব্রাহিম কোদালের বাট দিয়ে সোহেলের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে ইব্রাহিম লাশ বস্তায় ভরে নিজঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন।
বেশ কয়েক দিন ধরে সোহেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে বড় মামা ইব্রাহিমের কাছে জানতে চান মাইনুদ্দিন। তিনি জানান, সোহেলকে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছে। এরপর মাইনুদ্দিনসহ স্বজনরা ওই নিরাময় কেন্দ্রের ঠিকানা চাইলে ইব্রাহিম এড়িয়ে যান এবং এক পর্যায়ে আত্মগোপন করেন।
পরে সবাই ইব্রাহিমের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে চাপ দিলে তিনি গতকাল পুরো ঘটনা খুলে বলেন। খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠায়।
দেবীদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার জানান, ঘাতক ইব্রাহিম পলাতক। তার স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে রোজিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। ভাবির সঙ্গে পরকীয়াসহ যেসব অভিযোগ আসছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
