প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তবে এফআরসির তদন্তের মধ্যেই কোম্পানিটির আইপিও আবেদন শুরু হতে যাচ্ছে। আজ থেকে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আইপিও আবেদন শুরু হচ্ছে, যা ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। যদিও এফআরসির তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আইপিওর চাঁদা গ্রহণ শুরু হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
গত ১৬ জুলাই অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনকে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহে আইপিওর অনুমোদন দেয় এসইসি। আর এফআরসি এ কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের আগে থেকেই তদন্ত করছে। তবে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন প্রাপ্তিসহ অন্যান্য নথি সংগ্রহে সময় লাগায় কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে তদন্ত এখনো শেষ করতে পারেনি এফআরসি। তদন্ত শেষ করতে আরও সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন আইপিওতে দেড় কোটি শেয়ার ছাড়বে। আইপিওতে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার ছেড়ে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি মজুদ ছাউনি, প্ল্যান্ট শেড নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খরচ পরিচালনায় ব্যয় করবে।
অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চার বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রেভিনিউ বেড়েছে দ্বিগুণ। আর এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে এ কোম্পানির আয় হয় ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা ২০১৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে ছিল ১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে আয় ছিল ৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কোম্পানির বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোট আয়ও বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাববছরে মোট আয় হয়েছে ২৫ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা মোট বিক্রির ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৫৯ শতাংশ। এ সময় করপূর্ববর্তী মুনাফা হয় ১৭ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তবে আগের বছরের তুলনায় ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরে কর পরিশোধের পরিমাণ ব্যাপক হারে বাড়ায় নিট মুনাফায় তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। এ সময় নিট মুনাফা হয় ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
এদিকে ২০১৯-২০ হিসাববছরে অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের বিক্রি ও মুনাফা আরও বাড়তে দেখা গেছে। এ হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত সময়ে কোম্পানির পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয় ৩৭ কোটি ৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। ২০১৯-২০ হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত সময়ে কোম্পানির নিট মুনাফা হয় ১০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি।
