বাংলাদেশে প্রতি বছর আশঙ্কাজনক হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়লেও এ বছর সেই তুলনায় কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যা নিয়ে মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। পারস্পরিক সহযোগিতা, অর্থাৎ কেউ মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হলে অথবা ভালো ফল না করতে পারলে তাকে পরিবার, শিক্ষকের সহযোগিতা করা উচিত। এতে করে আত্মহত্যার পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নামানো সম্ভব।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশনের (আইএএসপি) মতে, প্রতি বছর মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী শীর্ষ ২০ কারণের অন্যতম হলো আত্মহত্যা। সংগঠনটি বলছে, প্রতিটি আত্মহত্যার ঘটনায় প্রায় ১৩৫ জন তীব্র শোকের শিকার হন। বিশে^ প্রতি বছর ১০৮ মিলিয়ন মানুষ আত্মঘাতী আচরণের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব উল্লেখ করে আইএএসপি বলছে, আমাদের উচিত আত্মহত্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। পাশাপাশি আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে নিজেকে এবং অন্যকে শিক্ষিত করা। সমাজে যারা এজাতীয় সমস্যায় পড়েছেন তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো উচিত। ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. মোহিত কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর এখন প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা; অর্থাৎ প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন। তবে এ বছর এ সংখ্যা অনেক কমেছে। কারণ মানুষ এখন অধিক সচেতন। বিষয়টি নিয়ে আজকাল টিভি, রেডিও ও পত্রপত্রিকাগুলো বেশ জোরালো আলোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, যারা আত্মহত্যা করছে, তাদের ৭০ শতাংশ ডিপ্রেশনে ভোগে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল হয়নি, ভালো বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি এসব কারণ থেকে তরুণদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষকদের সেই শিক্ষার্থীর পাশে থাকা জরুরি উল্লেখ করে এই মনোরোগ চিকিৎসক বলেন, এ রকম পরিস্থিতিতে কেউ যাতে ভেঙে না পড়ে, সে জন্য দরকার অধিক সহযোগিতা। তাকে বোঝানো উচিত যে একটি ভালো ফল বা ভালো প্রতিষ্ঠান জীবনের সবকিছু নয়।
