আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল বুধবার রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপিকে নেতিবাচক রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সকল স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি উপনির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে, এটা রাজনীতির জন্য শুভ সংবাদ। বিএনপির এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। সংসদীয় রাজনীতি এগিয়ে নিতে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিকল্প নেই।’
সভায় চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণকাজের সার্বিক অগ্রগতি ৫৮ ভাগ শেষ হয়েছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা সরকার চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহে রূপান্তরের যে অবিরাম প্রয়াস তারই ধারাবাহিকতায় গ্রহণ করে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ। সরকার এরই মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামকে ঘিরে। এরই মধ্যে নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি টিউবের মধ্যে একটি খনন ও রিং স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে। আরেকটি টিউবের খননকাজ আমরা আশা করছি নভেম্বর মাসে শুরু করা যাবে। গতকাল পর্যন্ত টানেলের সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৫৮ ভাগ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ টানেল চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে চীনা-সহায়তা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যে দুপ্রান্তের ভায়াডাক্ট নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। করোনা সংকটের শুরুতে প্রায় ৩০০ চীনা নাগরিক ছুটিতে নিজ দেশে অবস্থান করছিল। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে তারা বাংলাদেশে ফিরে আসে এবং কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ড শেষ করে কাজে যোগ দেয়। করোনাকালের প্রথমদিকে সীমিত পর্যায়ে কাজ চললেও টানেলের খননকাজ বন্ধ হয়নি। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে খননকাজ। এখন পুরোদমে কাজ চলছে।’
টানেলের দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত বা যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে যেন কোনোরূপ ভোগান্তি না হয়। টানেল নির্মাণ প্রকল্পের একটি ব্যতিক্রমী দিক হলো, শহরের একপ্রান্তে হওয়ায় নির্মাণকাজে কোনোরূপ জনভোগান্তি নেই। তবে নির্মাণকালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের কাজ শেষ হলে বদলে যাবে চিরচেনা চট্টগ্রাম এ আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নদী, পাহাড় আর সাগর মোহনার চট্টগ্রাম পাবে নবরূপ। নদীর ওপারে গড়ে উঠবে আরেক চট্টগ্রাম। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আবাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। চীনের সাংহাই নগরীর মতো চট্টগ্রাম হবে ওয়ান সিটি টু টাউন।’
