সাত সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পা রেখেছিলেন তারা। বসুন্ধরা কিংসের জার্সিতে লাতিন ফুটবল ছন্দে এদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করাই ছিল হার্নান বার্কোস, রবসন দ্য সিলভা রবিনহো ও জোনাথন ফার্নান্দেজের লক্ষ্য। কিন্তু ঢাকায় আসার কয়েক ঘণ্টা পর এলো দুঃসংবাদটা। এশিয়ার করোনা পরিস্থিতির দৃশ্যত কোনো উন্নতি না হওয়ায় এএফসি কাপ বাতিল করে দিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্স। করোনার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে অনুশীলন শুরু করা কিংসের এএফসি কাপ নিয়ে বড় স্বপ্নের বাস্তবায়নটা বিলম্বিত হলো এএফসির সিদ্ধান্তে।
গত মার্চে করোনার কারণে স্থগিত হওয়া এএফসি কাপের গ্রুপপর্ব সেন্ট্রালাইজড (কেন্দ্রীয়) ভেন্যুতে পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা করেছিল এএফসি। ২৩ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর মালদ্বীপের রাজধানী মালের দুটি ভেন্যুতে হওয়ার কথা ছিল এএফসি কাপের ‘ই’ গ্রুপের খেলাগুলো। অভিষেক ম্যাচে দেশের মাঠে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসকে ৫-১ গোলে হারানো কিংস ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করেছিল প্রস্তুতি। গতকাল ঢাকায় পা রাখা আর্জেন্টাইন গোলমেশিন বার্কোস এবং দুই ব্রাজিলিয়ান নতুন রিক্রুট রবিনহো ও জোনাথনকে কভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল ক্লাবটি। কিন্তু কাল দুপুরে এক অনলাইন সভায় এএফসির কার্যনির্বাহী কমিটি এএফসি কাপ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এএফসির ওয়েবসাইটে তারা লিখেছে, ‘কভিড-১৯ মহামারীর কারণে এশিয়ার অনেক দেশেই খেলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। তাই এটা বাতিল করার বিকল্প নেই।’ এমন খবরে যারপরনাই হতাশ বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান, ‘এটা অনেক বড় দুঃসংবাদ আমাদের জন্য। এএফসি কাপ নিয়ে আমাদের অনেক বড় লক্ষ্য ছিল। ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। বড় অঙ্কে চুক্তিবদ্ধ তিন বিদেশি আজই ঢাকায় এসেছে। এমন দিনে খবরটা এলো।’ এএফসির এই সিদ্ধান্তে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে কিংস। প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকায় ছয় মাসের চুক্তিতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে বিশ্ব তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলা হার্নান বার্কোসকে এনেছিল তারা। প্রথম ম্যাচে চার গোল করে আস্থার প্রতিদানও দিয়েছিলেন বার্কোস। এএফসি কাপ বাতিল হওয়ায় কিংসের জার্সিতে হয়তো তাকে আর দেখা যাবে না। ডিসেম্বরেই যে শেষ হয়ে যাবে তার চুক্তি। কিংস সভাপতি অবশ্য বলেছেন তার সঙ্গে ঘরোয়া মৌসুম নিয়ে নতুন করে আলোচনা করার। পাশাপাশি এএফসির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে চিঠি দেওয়ার কথাও বলেছেন ইমরুল হাসান ‘কেবল বিদেশি নয়, আমরা এএফসি কাপের জন্য দেশিদের সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন করেছিলাম। আসর বাতিল হওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। তাই ক্ষতিপূরণ চেয়ে আমরা চিঠি দিব এএফসিকে। তারাও নিশ্চয় ক্লাবগুলোর আর্থিক ক্ষতির বিষয়টা মাথায় রাখবে।’ এএফসি কাপ বাতিল হলেও আসন্ন ঘরোয়া মৌসুমকে লক্ষ্য রেখে অনুশীলন ক্যাম্প চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন কিংস সভাপতি।
এএফসি কাপের পাশাপাশি এএফসি সলিডারিটি কাপসহ বেশ কিছু বয়সভিত্তিক আসর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এএফসি। তবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এ মাসের ১৪ তারিখ থেকে কাতারে শুরু করবে তারা।
