ছেলেধরা গুজবে রাজধানীর বাড্ডায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে তাসলিমা বেগম রেনুকে (৪২) পিটিয়ে হত্যার মামলায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ১৫ জনকে আসামি করে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আবদুল হক। এর মাধ্যমে আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার শুরুর পথ তৈরি হলো।
রেনু হত্যায় মোট ১৯ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও চারজনের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া যায়নি। পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া গেলে পরে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্রে যে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে, তার মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর রয়েছে। আর মো. মহিউদ্দিন (১৮) নামে একজন পলাতক। বাকি ১২ জনের মধ্যে ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লাকে (২০) প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যরা হলেন রিয়া বেগম ওরফে ময়না বেগম (২৯), আবুল কালাম আজাদ ওরফে আজাদ মন্ডল (৫০), কামাল হোসেন (৪০), মো. শাহিন (৩২), মো. বাচ্চু মিয়া (৩৬), বাপ্পী ওরফে শহিদুল ইসলাম (২১), মুরাদ মিয়া (২৬), সোহেল রানা (৩০), আসাদুল ইসলাম (২২), বিল্লাল মোল্লা (৩২) ও রাজু ওরফে রুম্মান হোসেন (২৩)।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আলিফ, মারুফ, সুমন ও আকলিমা নামে চারজনের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দেওয়া হবে।
পদ্মা সেতু নির্মাণকাজে ‘মানুষের মাথা লাগবে’ বলে গত বছরের মাঝামাঝিতে ফেইসবুকে গুজব ছড়ানোর পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছেলেধরা সন্দেহে কয়েকটি হামলায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে গত বছরের ২০ জুলাই ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাসলিমা রেনুকে (৪২) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রেনুর ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচশ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর প্রথমে বাড্ডা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক প্রায় ৫ মাস তদন্ত করেন। এরপর মামলা তদন্তের ভার যায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে।
রেনু লেখাপড়া শেষে আড়ং ও ব্র্যাকে চাকরি করেছেন। পরে স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। ২০১৭ সালে স্বামী তসলিম হোসাইনের সঙ্গে তার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। এরপর মায়ের সঙ্গে মহাখালীর ওয়্যারলেস গেটের একটি ভাড়া বাসায় দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকতেন। সন্তানদের ভর্তির বিষয়ে খবর নিতে উত্তর বাড্ডার স্কুলটিতে গিয়ে হত্যার শিকার হন রেনু।
