ভেজাল ওষুধে সয়লাব চট্টগ্রাম

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:১০ এএম

চট্টগ্রামে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ বিক্রিতে প্রতারণা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজার সয়লাব নকল ও ভেজাল ওষুধে। এর সঙ্গে এখন বেড়েছে কৌশলে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ কেটে ওষুধ বিক্রি। ওষুধ প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকারের অভিযানের পরও থেমে নেই ওষুধ নিয়ে অসাধু কার্যক্রম। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ সেবনে মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।

চট্টগ্রামের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, গেল ছয় মাসে শুধু ভেজাল ওষুধ তৈরি, কাটা ওষুধ বিক্রি, অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির ঘটনায় ১৫০টি মামলা এবং দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত বুধবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অভিযানে গিয়ে কোতোয়ালি থানার দিদার মার্কেটের বিভিন্ন ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার প্রমাণ পায়। এ সময় মার্কেটের খোদেজা ফার্মেসিকে ৫ হাজার এবং চন্দনপুরা এলাকার সিটি ফার্মাকে মেয়াদোত্তীর্ণ ও কাটা ওষুধ রাখার দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। ৬ সেপ্টেম্বর ওষুধের মূল্য টেম্পারিং করায় বায়েজিদ এলাকার আলম মেডিকেল হল, সেবা মেডিসিন সেন্টারকে ৫ হাজার, সেইফ জোন মেডিসিনকে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক ওষুধ রাখায় ২০ হাজার এবং সলিমপুর এলাকার ইসলাম ফার্মেসিকে মেয়াদবিহীন কাটা ওষুধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনস্বার্থে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির জন্য কৌশলে উল্লিখিত মেয়াদের স্টিকার কেটে ফেলছেন। সাধারণ মানুষ না বুঝে এসব ওষুধ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা জব্দকৃত নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও কাটা ওষুধ ধ্বংস করছি। জরিমানাও করছি। ভোক্তাদের ক্ষতি করে কাউকে অনৈতিক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘চট্টগ্রামে গত ছয় মাসে মেয়াদবিহীন, টেম্পারিং, ভেজাল ওষুধ তৈরি, অনিবন্ধিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে ১৫০টি মামলা এবং সংশ্লিষ্টদের থেকে দেড় কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ১২ অসাধু ব্যবসায়ীকে আটকের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কাটা ওষুধ নেওয়ার সময় যাচাই করতে হবে। আমরা ফার্মেসি মালিকদের কাটা ওষুধ বিক্রির সময় অবশ্যই মেয়াদের অংশ ক্রেতাকে দেখাতে বলেছি। অসাধুতা করে কেউ পার পাবে না।’

মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধকে ‘বিষ’ উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সুস্থতার জন্য আমরা ওষুধ সেবন করি। কিন্তু চট্টগ্রামে মানুষ ওষুধের নামে বিষ সেবন করছেন। ভেজাল, মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে। জটিল রোগ বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এসব ওষুধ খুবই ক্ষতিকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসনিক কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। জরিমানার অঙ্কও বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক স্থানীয় সরকারের অধীনে কমিটি করে এসব ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে। না হলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়বে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত