কনটেইনার পরিবহনকারী শ্রমিকদের ধর্মঘটে চট্টগ্রামে গতকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কনটেইনার পরিবহনব্যবস্থা ছিল পুরোপুরি অচল। সীতাকুন্ডের এমএম ট্রান্সপোর্ট থেকে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালসহ ৫ দফা দাবিতে এ কর্মবিরতির ডাক দেয় প্রাইম মুভার-ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের কনটেইনার ডেলিভারি বন্ধ হয়ে যায়। অফডকগুলো থেকেও রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে পাঠানো যায়নি।
প্রাইম মুভার-ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মঈন উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সীতাকুন্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহার আহ্বানে গতকাল কয়েক দফা বৈঠকের পরও এমএম ট্রান্সপোর্টের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসনের অনুরোধ ও সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে এমএম ট্রান্সপোর্ট ও বিএসআরএম সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলো ছাড়া অন্যান্য প্রাইম মুভার ও ট্রেইলর চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এমএম ট্রান্সপোর্ট থেকে কিছুদিন আগে কিছু প্রাইম মুভার ও ট্রেইলর শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। মূলত এ নিয়েই শ্রমিকদের আন্দোলন। তাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া, মজুরি, শ্রমিক ছাঁটাই কোনো ক্ষেত্রেই শ্রম আইন মানছে না। তাই পাঁচ দফা দাবিতে শনিবার সকাল ৬টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা। দাবিগুলো হচ্ছে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান, সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, বিএসআরএমের বেআইনিভাবে কর্তন করা টাকা ফেরত দেওয়া, পূর্ব নোটিস ছাড়াই কাজ থেকে বিরত রাখা ও বিএসআরএমের ছাঁটাইকৃত ২৩ প্রাইম মুভার ট্রেইলার ড্রাইভারকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা।
শ্রমিকদের কর্মবিরতি কর্মসূচিতে শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামে সব ধরনের কনটেইনার পরিবহন বন্ধ হয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোশাক কারখানার রপ্তানি পণ্য ভর্তি করা কনটেইনারগুলো পাঠানো যায়নি অফডকগুলোয়। একইভাবে অফডক থেকে রপ্তানি পণ্য বন্দরে যায়নি। বন্দর থেকেও কোনো পণ্য অফডকে আসেনি। সকালে বন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিমতলা থেকে পোর্ট কলোনি পর্যন্ত রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে আছে প্রাইম মুভার ও ট্রেইলরগুলো। বন্দর থেকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে আমদানি পণ্য ডেলিভারি হলেও কোনো কনটেইনার বের হতে দেখা যায়নি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে বাইরে প্রাইম মুভার ও ট্রেইলর চলাচল বন্ধ থাকায় কনটেইনার ডেলিভারি হচ্ছে না। বাইরে থেকে কোনো কনটেইনার বন্দরে প্রবেশ করছে না। তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে বন্দরের কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও বন্দরকে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর (অফডক) সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিদিন অফডকগুলোয় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টিইইউস কনটেইনার জাহাজীকরণের জন্য বন্দরে পাঠানো হয়। একইভাবে বন্দর থেকে অন্তত ১ হাজার টিইইউস আমদানি পণ্যের কনটেইনার অফডকে আসে। এ ছাড়া প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টিইইউস খালি কনটেইনার বন্দরে যায়। কিন্তু শনিবার তা বন্ধ ছিল।
প্রাইম মুভার-ট্রেইলর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এ বি সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে জানান, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়িতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা ও বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত এমএম ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রাইম মুভার শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক হয়। এ সময় ৫ দফা দাবি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কিন্তু এমএম ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ এসব দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ না করায় আলোচনা ব্যর্থ হয়। তারপরও প্রশাসনের অনুরোধে আমরা এমএম ট্রান্সপোর্ট ও বিএসআরএম ছাড়া অন্যান্য গাড়ি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে আজ রবিবার আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
