আমদানি ব্যয় কমে যাওয়া ও প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফনের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) ১১২ কোটি ডলারের বেশি উদ্বৃত্ত রয়েছে। এতে করে বিদেশের সঙ্গে লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে দেশের অর্থনীতির প্রধান এই সূচকটিতে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোনো এক দেশের সঙ্গে বিশে^র অন্য সব দেশের সব লেনদেনের পার্থক্যই হচ্ছে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট। এই হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো, নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবেও বড় অংকের উদ্বৃত্ত রয়েছে। আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরের জুলাই মাসে চলতি হিসাবে ১৯৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে। অথচ গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঘাটতি নিয়ে শুরু হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৪৮৪ কোটি ৯০ লাখ (প্রায় ৫ বিলিয়ন) ডলারের বড় ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ১১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করছে।
চলতি জুলাইয়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতিও অনেক কমেছে। এ সময়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ঘাটতি হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। চলতি জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩৮২ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। আর চলতি জুলাইয়ে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৩৯১ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। গত অর্থবছরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছিল।
আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে, করোনা সংক্রমণের কারণে পদ্মাসেতুসহ অবকাঠামো খাতের বড় বড় প্রকল্পগুলোতে স্থবিরতা ও শিল্পে কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমে যাওয়া। এতে করে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতার লক্ষণ ফুটে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ার কারণেও চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯০ শতাংশ আসে বেসরকারি ভোগ ও বিনিয়োগ থেকে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতিও কমেছে। গত বছরের জুলাই মাসে এ খাতের ঘাটতি ছিল ৫১ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা চলতি জুলাইয়ে কমে ৩৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার হয়েছে। মূলত বীমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।
চলতি জুলাইয়ে সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে প্রবাসী আয়। এ সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৬০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। চলতি জুলাইয়ে যে প্রবাসী আয় এসেছে, তা একক মাস হিসেবে দেশে সর্বোচ্চ। তবে চলতি জুলাইয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৭ কোটি ডলারে নেমেছে।
