বিদেশিতে আপত্তি নেই অধিকাংশ ক্লাবের

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:৩০ এএম

করোনার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদেশি বাদ দিয়ে সামনের মৌসুম খেলার পক্ষে মত ছিল অনেক ক্লাবের। ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পেশাদার লিগ কমিটির সভা শেষে তারা স্থানীয়দের নিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগসহ অন্য দুটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাফুফে যখন ক্লাবগুলোর কাছ থেকে লিখিত মতামত চাইল তখন দেখা গেল অধিকাংশ ক্লাবই চায় বিদেশি খেলাতে। ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৩টি ক্লাবকে লিখিত মতামত দিতে বলেছিল বাফুফে। এর মধ্যে নয়টি ক্লাব তাদের মতামত জানিয়েছে, যার সাতটিই চেয়েছে বিদেশি থাকুক। চায়নি কেবল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ও উত্তর বারিধারা। ঢাকা আবাহনী, চট্টগ্রাম আবাহনী, শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব ও মোহামেডান এখনো বাফুফের কাছে লিখিত মতামত পাঠায়নি বলে পেশাদার লিগের সভা কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। তবে এই চার ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেও বোঝা গেছে তারাও বিদেশি খেলানোর পক্ষে। তাতে বোঝাই যাচ্ছে স্থানীয় ফুটবলারদের অনেক দিনের চাওয়া এবারও অপূর্ণ থাকছে।

করোনাকালে প্রায় পাঁচ মাস ধরে ঘরে বসে রয়েছেন অধিকাংশ ফুটবলার। তারা তাকিয়ে বাফুফের দিকে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলা শুরু হয়েছে। বাফুফে এখনো সেই পথে হাঁটেনি। ইঙ্গিত যা মিলেছে নভেম্বরের আগে ঘরোয়া ফুটবল শুরুর কোনো সম্ভাবনা নেই। তার আগে হতে হবে দলবদল। ফুটবলারদের চাওয়া ছিল অন্তত মৌসুম সূচনাকারী ফেডারেশন কাপটি বিদেশি ছাড়া হোক। কিন্তু ক্লাবগুলো বিদেশিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সেই চাওয়া অপূরণীয়ই থাকবে। আসলে অনেক ভেবেচিন্তেই ক্লাবগুলো বিদেশি রাখার পক্ষে রায় দিয়েছে। স্থানীয়দের সমান অথবা কম পারিশ্রমিকে বিদেশি খেলালে স্থানীয়দের চেয়ে বেশি সার্ভিস পাওয়া যায়, এই বাস্তবতা বুঝেই শুরুতে মুখে না করলেও পরে বিদেশি রাখতে রাজি হয়েছে কিছু ক্লাব। বসুন্ধরা কিংস অবশ্য শুরু থেকেই বিদেশি রাখার পক্ষে ছিল। শেখ জামাল বিদেশি রাখার পক্ষে। এখন দেখা যাচ্ছে নিচের সারির দলগুলোও চায় বিদেশি রাখতে। রহমতগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ বলেন, ‘শুরুতে বিদেশি বাদ দেওয়ার পক্ষে থাকলেও পরে দেখলাম বিদেশি না থাকলে অনেক ক্লাবের দল গড়তে সমস্যা হবে। তাই আমরা কোটা কমিয়ে বিদেশি রাখার পক্ষে।’

বিদেশি না রাখার পক্ষে অবশ্য যুক্তি দিয়েছে সাইফ ও বারিধারার কর্তারা। সাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালন নাসিরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘করোনার এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদেশিদের পেছনে বিশাল অঙ্কের টাকা খরচের সামর্থ্য অনেক ক্লাবেরই নেই। তাছাড়া আমরা চেয়েছি এই জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের টাকা যাতে দেশেই থাকে। আমরা তাই বিদেশি না রাখার পক্ষে মত দিয়েছি।’ বারিধারার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দেশি খেলোয়াড়দের তো বুঝিয়ে সুঝিয়ে একটু কম টাকা দিয়ে রাখা যায়। বিদেশিদের ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব নয়। তাদের দিতে হবে পুরো টাকা। আবার একটু বিলম্ব হলেই তারা ফিফার কাছে নালিশ করে। করোনার এই পরিস্থিতিতে বিদেশিদের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ অনেক ক্লাবই জোগাড় করতে পারবে না। তাই অন্তত এই মৌসুমটা বিদেশি ছাড়া হলে ভালো হয়।’

ঢাকা আবাহনী অবশ্য এই ইস্যুতে মাঝামাঝি অবস্থানে থাকতে চাচ্ছে। তাদের কোনো কিছুতেই সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু। বাফুফে অবশ্য চাইছে বাকি চারটি ক্লাবের মতামত হাতে পাওয়ার পর সিদ্ধান্তে যেতে। সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই এ নিয়ে সভা করব। আসলে বাকি চারটি ক্লাবের মতামত জানাও জরুরি। আসছে পেশাদার লিগ কমিটির সভায় দলবদল ও মৌসুম নিয়ে একটা পরিষ্কার দারুণ পাওয়া যাবে। তবে আমরা চাইছি নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ফেডারেশন কাপ দিয়ে মৌসুম শুরু করতে। আর ডিসেম্বরে শুরু হবে লিগ।

মাঠে বল গড়ানোর চাওয়াটা ফুটবলারদের পাশাপাশি ক্লাবগুলোরও। তবে নির্বাচনের মৌসুমে ফুটবল মাঠে গড়ানো নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার সুযোগ নেই নির্বাচনমুখী বাফুফের বর্তমান নির্বাহী কমিটির। ৩ অক্টোবর নির্বাচনের আগে ফুটবলারদের জন্য বড় কোনো সুখবর না হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত